মঙ্গল গ্রহ লাল হওয়ার কারণ আবিষ্কার

মঙ্গল গ্রহ লাল হওয়া নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। এতোদিন গ্রহটির লাল রঙের জন্য মাটিতে লৌহের প্রাধান্যকেই দেখা হতো। নতুন আবিষ্কারে সেই ধারণা পাল্টে গেছে।

বরং শুকিয়ে যাওয়া পানি থেকে সৃষ্টি হওয়া ফেরিহাইড্রাইটের জন্য গ্রহটি লাল রঙ হয় বলে জানালেন গবেষকরা। নতুন তথ্যের ফলে মঙ্গলকে লাল গ্রহ বলার সঠিক কারণ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা।

একইসঙ্গে মঙ্গল সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারছেন তারা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবট যান লাল গ্রহে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সংগ্রহ করছে নানা তথ্য।

তবে শুধু নাসা নয়, মঙ্গল নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে গবেষণা চলছে। মঙ্গল গ্রহকে আরও ভালো করে চেনার চেষ্টা করছে সবাই।

মঙ্গলের মাটিতে রয়েছে  পানিতে পরিপূর্ণ একধরনের লোহার কণা যার নাম ফেরিহাইড্রাইট, ছবি: সিএনএন

এতদিন সবার ধারণা ছিল মঙ্গল গ্রহকে লাল দেখায় কারণ মঙ্গলের মাটিতে লৌহ নামে খনিজের প্রাধান্য রয়েছে। কিন্তু সঠিক কারণ স্পষ্ট ছিল না।

সম্প্রতি নেচার কমিউনিকেশনস নামে একটি জার্নালে এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। যা এতদিন পর মানুষকে মঙ্গল গ্রহ লাল হওয়ার জানান দিল।

ওই গবেষণা অনুযায়ী, মঙ্গলে এখন যে বায়ুমণ্ডল রয়েছে তা এতটাই পাতলা যে সেখানে পানি থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গল গ্রহে প্রচুর পানি ছিল।

সেই পানি একসময় শুকিয়ে  গেলেও পানির নানা খনিজ এখনও মঙ্গলের মাটিতে রয়ে গেছে। যেমন মঙ্গলের মাটিতে রয়েছে একধরনের লোহার কণা যার নাম ফেরিহাইড্রাইট। এই ফেরিহাইড্রাইট হল মঙ্গলের মাটিকে লাল দেখানোর প্রধান কারণ।

মঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে নাসার মহাকাশ যন্ত্র, ছবি: সিএনএন

গবেষণা বলছে, এই ফেরিহাইড্রাইট সৃষ্টি হয় ঠাণ্ডা পানির ছোঁয়ায়। আবহাওয়াও কিছুটা ঠাণ্ডা থাকলে এই খনিজ তৈরি হয় দ্রুত।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটাই প্রমাণ করে যে এক সময় মঙ্গল গ্রহে প্রাণ থাকার উপযুক্ত পরিবেশ ছিল।

হতে পারে কোটি কোটি বছর আগে, কিন্তু ফেরিহাইড্রাইট যেভাবে তৈরি হয়, তার শর্ত মানলে মঙ্গলে প্রাণ থাকার উপযুক্ত পরিবেশ থাকত বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ, এনভাইরনমেন্টাল এণ্ড প্লানেটারি সায়েন্স বিভাগের পোস্টডক্টরাল ফেলো ও গবেষণা দলের প্রধান লেখক অ্যাডোমাস ভ্যালান্টিনাস গবেষণা দলের নের্তৃত্ব দেন।

মঙ্গল গ্রহের লাল রংয়ের এমন রুপান্তর হচ্ছে এটা গবেষকদের উপলব্ধির বিষয় বলে বিবৃতি জানায় গবেষণা দল।

অনুবাদ: মোহাম্মদ রবিউল্লাহ,  সূত্র: সিএনএন ও থট সিও