আবস্ট্রাক্ট এক্সপ্রেশনিজমের সাহসী স্ট্রোক থেকে শুরু করে রিয়ালিজমের সূক্ষ্ম কাজ, শিল্পপ্রেমিদের জন্য প্রত্যেক শিল্পীর কাছেই কিছু না কিছু থাকে। অনেকের কাছেই পৃথিবী বিখ্যাত সব শিল্পকর্ম ও চিত্রকর্ম নিজের সংগ্রহে রাখা গর্বের ব্যাপার।
তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হল অনেক সময় কিছু অসাধু মানুষ বিখ্যাত শিল্পকর্ম চুরি করে পাচার করে দেয় এবং সেগুলো আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি এক শতাব্দী আগে চুরি হয়ে যাওয়া বিখ্যাত শিল্পীদের বেশ কিছু শিল্পকর্ম আজও নিখোঁজ!
চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৫টি বিখ্যাত পেইন্টিং সম্পর্কে যা চুরি হয়ে গেছে অনেক আগে কিন্তু আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

১. ভিনসেন্ট ভ্যান গগের ‘পপি ফ্লাওয়ার’
ভিনসেন্ট ভ্যান গগের ‘পপি ফ্লাওয়ার’ হল একটি গাঢ় বাদামী ব্যাকগ্রউন্ডে প্রাণবন্ত লাল এবং হলুদ পপির মনোরম চিত্র। ১৮৮৭ সালে আঁকা এই মাস্টারপিসটি শিল্পীর স্বাতন্ত্র্যসূচক শৈলী এবং গভীরতাকে প্রকাশ করে।
এটি একটি পেইন্টিং হিসাবে খুবই বাস্তবসম্মত। ২০১০ সালে মিশরের কায়রোতে মোহাম্মদ মাহমুদ খলিল যাদুঘর থেকে পেইন্টিংটি চুরি হয়ে যায় তাও আবার রীতিমতো দিবালোকে। ব্যাপক তদন্ত সত্ত্বেও ‘পপি ফ্লাওয়ারের’ হদিস আজো অজানা।

২. পাবলো পিকাসোর ‘লে পিজিয়ন অ পিতি পোয়া ’
পাবলো পিকাসোর ‘লে পিজিয়ন অ পিতি পোয়া’ বা ‘দা পিজিওন উইথ গ্রিন পিস’ শিল্পীর কিউবিস্ট পেইন্টিং সময়ের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ১৯১১ সালে তৈরি, পেইন্টিংটিতে সবুজ মটরের একটি বাটি বরাবর একটি কবুতরের খণ্ডিত এবং ‘কিউবড’ চিত্র রয়েছে।
২০১০ সালে, এটি আরও চারটি মাস্টারপিসের সাথে মিউজী ডি’আর্ট মডার্ন দে লা ভিলে দে প্যারিস থেকে চুরি হয়েছিল। কুখ্যাত শিল্প চোর সহ বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সত্ত্বেও, চিত্রকর্মটি এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

৩. জোহানেস ভার্মিয়ারের ‘দ্য কনসার্ট’
জোহানেস ভার্মিয়ারের ‘দ্য কনসার্ট’ ডাচ গোল্ডেন এজ পেইন্টিংয়ের সময়ের একটি মাস্টারপিস। পেইন্টিংটিতে বিপরীত আলো এবং ছায়ার প্রভাবের (কিআরস্কুরু) একটি ইঙ্গিত ছিল। ১৬৬০ এর দশকে তৈরি এই আইকনিক কাজটি একটি মার্জিত অভ্যন্তরীণ পরিবেশে ৩জন সঙ্গীতজ্ঞের সমাবেশকে চিত্রিত করে।
১৯৯০ সালে, ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের ইসাবেলা স্টুয়ার্ট গার্ডনার মিউজিয়াম থেকে ‘দ্য কনসার্ট’ চুরি হয়েছিল, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্ট চুরির মধ্যে একটি।

৪. রেমব্রান্টের ‘দ্য স্টর্ম অন দ্য সি অফ গ্যালিলি’
রেমব্রান্টের ‘দ্য স্টর্ম অন দ্য সি অফ গ্যালিলি’ একটি বাইবেলের দৃশ্যের একটি নাটকীয় চিত্রকলা। পেইন্টিংটিতে একটি ঝড়-বিধ্বস্ত সমুদ্রের বিশৃঙ্খলা এবং তীব্রতা দেখতে পাওয়া যায় যা যীশু শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।
১৬৩৩ সালে আঁকা এই মাস্টারপিসটি রেমব্রান্টের আলো এবং ছায়ার দক্ষতা প্রদর্শন করে, সেইসাথে একটি চিত্রকর্মকে বাস্তবসম্মত রূপ দেয়ার প্রতিভা প্রকাশ করে। ১৯৯০ সালে চিত্রকর্মটি ইসাবেলা স্টুয়ার্ট গার্ডনার যাদুঘর থেকে চুরি হয়ে যায় এবং চলমান প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, রেমব্রান্টের একমাত্র সমুদ্রের দৃশ্য নিয়ে আঁকা ছবিটি আজো নিখোঁজ।

৫. রাফায়েলের ‘পোট্রেট অব আ ইয়াং ম্যান’
রাফায়েলের ‘পোট্রেট অব আ ইয়াং ম্যান’ প্রায় ক্যামেরা ব্যবহার করে ধারণ করা ছবির মতো দেখায়। সুন্দর চোখ, চুল এবং ফর্সা বর্ণের একটি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। যার ছবি দেখলে মনে হয় সে দর্শকের দিকে সরাসরি তাকিয়ে আছে।
১৬ শতকের গোড়ার দিকে আঁকা এই প্রতিকৃতিটি, রাফেলের মানবিক রূপ চিত্রায়ণ করার দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করার ক্ষমতা প্রকাশ করে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পেইন্টিংটি চুরি হয়ে যায়।
ছবি: উইকিপিডিয়া, রিসার্চ গেট