যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে বার্গারের চেয়েও প্রিয় বন্দুক! দেশটির মানুষ ভীষণ বন্দুকপ্রেমী। তবে হঠাৎ করে বন্দুক বিক্রিতে ভাটা পড়েছে দেশটিতে। পাঁচ বছর আগে করোনা মহামারিকালে বন্দুকের চাহিদা আকাশচুম্বী থাকলেও এখন তা চোখে পড়ছে না। সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছে বন্দুক বিক্রয়ের ওপর নজর রাখা মার্কিন প্রতিষ্ঠান ট্রেস।
প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশিত রিপোর্টে জানিয়েছে, ২০২০ সালে কোম্পানিগুলো বিক্রি করেছিল ২১ দশমিক ৮ মিলিয়ন বন্দুক। আর চার বছর পর ২০২৪ সালে কেনার হার কমে গেছে। ওই বছর আমেরিকানরা কিনেছে ১৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন বন্দুক।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, ২০২১-২০২৩ সালের মধ্যে বাজারে উৎপাদিত বন্দুকের বিক্রি কমেছে ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ ২৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন থেকে কমে হয়েছে ১৪ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন। এ ছাড়া বিক্রির আগে আইন অনুযায়ী বন্দুকের দোকানগুলো ন্যাশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা (ব্যক্তিগত তথ্য) যাছাই করে ক্রেতার।
টেনেসির অঙ্গরাজ্যের ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোনাথন মেজল জানান, করোনা মহামারির সময় আতঙ্ক ও অনিশ্চিয়তার কারণে বন্দুকের মালিক ও প্রথমবার বন্দুক কেনা ব্যক্তিরা ক্রয় বাড়িয়ে দিয়েছিল। এ জন্য ২০২০ থেকে ২০২১ সালে বেড়েছিল বন্দুক বিক্রি। টেকসই বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা কখনই ভালো নয়। এখন বহু মানুষের কাছে বন্দুক রয়েছে। তাই মহামারি কালের মতো বন্দুক দরকার পড়ছে না তাদের।

নতুন আইনকে দায়ী করে শার্প শুটিং ইন্ডোর রেঞ্জ অ্যাণ্ড গান শপের মালিক জেরেমি বল বলেন, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা অ্যাসল্ট রাইফেল বিক্রি বন্ধ করেছে। একই সঙ্গে একটি বন্দুক কেনার পর দ্বিতীয়টি কিনতে ১০দিন সময় বেঁধে দেওয়ার পর আগ্রহ হারাচ্ছে ক্রেতারা।

তিনি আরও বলেন, মুদ্রাস্ফিতিও বন্দুক বিক্রি কমে যাওয়ার পেছনে একটা বড় কারণ। এ মহূর্তে রাজধানী ওয়াশিংটনে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। এমন অবস্থায় আপনি ডিম কিনবেন নাকি বন্দুক ক্রয় করতে যাবেন।
উল্লেখ্য, দেশটির নাগরিকদের কাছে বন্দুক রয়েছে ৩৯০ মিলিয়ন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ আমেরিকানদের মধ্যে ৪২ শতাংশ পরিবারের কাছে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। এ ছাড়া ৩২ শতাংশ মানুষের কাছে রয়েছে একটি করে বন্দুক। ১৮৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য ৫০০ মিলিয়ন বন্দুক উৎপাদন করেছে মার্কিন কোম্পানিগুলো।
সূত্র: এবিসি নিউজ ও ইউএস টুডে