অফবিট

হুইল চেয়ারেই কানিজের মেজর উপাধি

২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ চলাকালে দুর্ঘটনায় পড়ে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় সেনা বাহিনীর ক্যাপ্টেন কানিজ ফাতেমার।

দুর্ঘটনার পরে সেনাবাহিনীর কঠোর ও সুশৃঙ্খল স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না তার পক্ষে। তবে দমে যাননি তিনি।

নিজের অদম্য মানসিক শক্তি ও সহকর্মীদের সহায়তায় দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যান। তার ইচ্ছাশক্তির কাছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মেনেছে পদে পদে।

অকুতোভয় এই নারী দেশের স্বার্থরক্ষায় কাজ করে যেতে দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলেন। তার এই উদ্দীপনাকে সম্মান জানায় সেনাবাহিনী।

৪ জুন হুইল চেয়ারে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে এক আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে তাকে মেজর র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন সেনা প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

পক্ষাঘাতগ্রস্ত কানিজ আজ শুধু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নয়, পুরো দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নারী সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

দেশসেবার এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ২০১১ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন কানিজ। ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর কমিশন লাভ করেন। কমিশন পাওয়ার ২০ দিনের মধ্যে তার বাবা হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।

পরে তিনি তার পরিবারের হাল ধরেন। পরিবারে তার মা, আরো দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। তিনি সবার বড়। ভাই-বোনদের পড়াশোনাসহ যাবতীয় খরচ তিনিই বহন করছেন।

কমিশন পাওয়ার পর থেকে তার ওপর অর্পিত সব দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন। বর্তমানে ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ৩৩ এসটি ব্যাটালিয়নে কর্মরত রয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস থেকে বিএসসি ইন মিলিটারি স্টাডিজ বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করা কানিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বারের বিংলাবাড়ী গ্রামে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন