ক্রিটিকস

সৌদি-বাহারাইন সেতুতে লাখো মানুষ আসে কিন্তু নাট বল্টু…

এটিই একমাত্র সৌদি আরব আর বাহরাইন এই দুই দেশকে স্থলপথে যোগাযোগ করানোর জন্যে আরব সাগরের মধ্য দিয়ে চার লেন বিশিষ্ট ২৫ কিলোমিটার লম্বা সেতু বা কজওয়ে।

সেতুটি বানানো হয়েছিল ১৯৮৬ সাল। ৩৫ বছর আগে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে নেদারল্যান্ডের বালাস্ট নিদাম কোম্পানি এটি বানিয়ে ছিল।

সৌদি আরবের এমন কোন প্রবাসী বা এমন কোন মোয়াতেনিন বা দেশী মানুষ ছিল না যারা এটি দেখতে যাননি।

লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর কেউ কোনোদিন ব্রিজের রেলিংয়ের নাটবল্টু পরীক্ষা করতে যায়নি, কেউ নামাজ পড়েনি ব্রিজে, কেউ পেশাব করেনি, আর কোনো নারী উদ্ভট ভঙ্গীতে নেচে ভিডিও করেনি।

এই ধরণের বিকৃত মানসিকতা প্রকাশের কারণ কি? অনেকেই আবার তাদের সাপোর্ট নিচ্ছেন।

কেনো ভাই সরকার কি উনাকে দায়িত্ব দিয়েছে নাট বল্টু ঠিক আছে কিনা পরীক্ষা করার জন্যে?

এইসব ছোট খাটো ত্রুটি থাকতেই পারে বৃহৎ একটি স্থাপনার মধ্যে। আপনাদেরকে তো আর বলা হয়নি সেতুটিতে এইগুলো খুঁজে বের করুন আর বের করছেন তো করছেন এটাতো কর্তৃপক্ষকে জানালেই হতো।

কিন্তু এইটা জানানোটা আপনার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল না, উদ্দেশ্য ছিল এই ছোটখাটো ত্রুটি দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করে কিভাবে নিজেকে ভাইরাল করবেন আর সরকারের কার্যক্রম কে অপমানিত করবেন।

তাও সবকিছু মেনে নিতাম যদি ভিডিও করার পর অন্তত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যেতেন এই ব্যাপারটা নিয়ে কিন্তু উনি তো তাও করেননি।

আজকাল রাস্তায় কেউ যদি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পড়েও থাকে আর সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করতে থাকে তাও মানুষ সাহায্য না করে।

সাহায্য না করলেও ঠিকই ভিডিও করবে নিজেকে ভাইরাল করার জন্যে। এই সব মানুষের সর্বোচ্চ শাস্তিই কাম্য।

যেকোনো কিছুর সঠিক কদর করার মানসিকতা আমাদের হারিয়ে গেছে পুরোপুরি। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে সবাইকে।

কলমে: জাকির হোসাইন, সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশি ও তরুণ উদ্যোক্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন

যেভাবে ক্ষমতা ছেড়েছিলেন পাকিস্তানের ২২ প্রধানমন্ত্রী

আফনান জাহান: চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে […]