ভিউস

শ্রীলংকার এই অর্থনৈতিক করুণ পরিণতি কেন হল

আফনান জাহান: বিশ্বে করোনা, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এর বাইরেও আরেকটি দেশের করুন অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে সারা বিশ্বে বেশ আলোচনা তা হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কা তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। দেশটিতে এখন চালের কেজি ৫০০ টাকা, ২৫০ রুপিতে মিলছে ১ ডলার, তাও সেটি কালোবাজারে। কাগজের অভাবে স্কুল-কলেজের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। জ্বালানী তেলের সঙ্কট এতোটাই তীব্র, যে পেট্রোল ফিলিংস স্টেশনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে।

এই দুরবস্থা কিভাবে হলো?

করোনা মহামারি কিংবা চীনের ঋণ, কোনটাই এককভাবে এই দুরবস্থার জন্য দায়ী নয় বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং সরকারের দীর্ঘদিনের অদক্ষ সিদ্ধান্তের কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

২০১২ সাল থেকে আর্থিক সংকট শুরু হলেও কোনও কর্মপন্থা গ্রহণ করেনি দেশটি। অন্যদিকে হাম্মানটোটা বন্দর, পোর্টসিটিসহ কয়েকটি বিশাল কয়েকটি মেগা প্রজেক্ট বাণিজ্যিকভাবে লোকসানে পতিত হয়। এই লোকসানের ফলে দেশটির ব্যংক থেকে ঋণ নেয়া শুরু করে সরকার।

২০২০-২১ সালে করোনার কারণে দেশটির বাৎসরিক ৪শ কোটি ডলারের আয় শুন্যে নেমে আসে

শ্রীলঙ্কার ২০০৫ সালের জিডিপির ২৬ শতাংশ এসেছিল রপ্তানি থেকে। ২০২১ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসে।

এছাড়া গোতাবায়ার সরকার জনগণের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য করদাতাদের বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। এতে ৫০ হাজার কোটি রুপির রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। ফলে বার্ষিক জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ রাজস্বের ক্ষতি হয়।

কৃষিকে রাতারাতি জৈব চাষে রূপান্তরিত করার চেষ্টায় দেশটির কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতি হয়। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবল সংকটের মধ্যেও চাল আমদানি করতে বাধ্য হয় দেশটি।

এছাড়া সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে, অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অভূতপূর্ব পরিমাণে ঋণ নেয়। এতে রাজস্ব আরো কমে আসে।

গত ২৫ মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি রুপি ঋণ নেয় শ্রীলঙ্কার সরকার। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসে। ২০১৯ ডিসেম্বরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৭৬০ কোটি ডলার। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে তা মাত্র ২৩০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

এরমধ্যে চীনের সঙ্গে সোয়াপ বিনিময়যোগ্য অর্থের পরিমাণ ১৬০ কোটি ডলার। এ অর্থ বাদ দিলে শ্রীলঙ্কার হাতে থাকে মাত্র ৪০ কোটি ডলার, যা দিয়ে এক সপ্তাহের আমদানি কার্যক্রম চালানো সম্ভব।

শ্রীলংকার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য বিশ্বগণমাধ্যমে প্রায়ই দেশটির এমন দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশটির সরকারের যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

আরও পড়ুন

নারী

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব আঘাত করছে নারীকে

নীলাঞ্জনা বিথি: জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব আঘাত করছে নারীকে। দূষিত […]