সম্পর্ক

শিশুদের সাথে যেভাবে কথা বলা উচিৎ

রাফসান রাজ: আমরা অনেকে হয়তো শিশুদের সাথে যথাযথ ব্যবহার করতে পারি না যার কারণে ব্যক্তিত্ব গঠনে ঘাটতি থেকে যায়। ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের সাথে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে কথা বললে তাদের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

০-২ বছর:

  • এই বয়সী শিশুদের সাথে প্রথম যোগাযোগ হচ্ছে স্পর্শ, বাবুকে স্পর্শ করতে হবে। তাকে পরিষ্কার হাতে আদর করতে হবে।
  • মুখ ও দেহের অঙ্গভঙ্গি বাচ্চারা ধরতে পারে। আপনার বলা কথা মুখের চাহনি দিয়েও বুঝাতে হবে। শরীরী ভাষা ব্যবহার করতে হবে।
  • বাবুর লুলাবাই কথাগুলার উত্তর দিন তার সাথে ঠিকমত কথা বলার মাধ্যমে।
  • যদিও সে কথা বুঝতে পারে না তারপরও তার সাথে কথা বার্তা বললে তার ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

৩-৫ বছর:

  • যখনই সম্ভব আপনার শিশুকে সম্পূর্ণ মনোযোগ প্রদান করুন।
  • আপনার নিজের কথা বলার স্টাইল ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এর দিকে লক্ষ্য রাখুন। সেখান থেকেই বাবু শিখবে।
  • কথার সাথে আবেগ বুঝাতে শিশুকে সাহায্য করুন।
  • বাচ্চার রাগ, আবেগ নিয়ন্ত্রন শিক্ষায় তাকে সাহায্য করুন ধৈর্যের সাথে।
  • এ বয়সের বাচ্চার প্রশ্নের উত্তর দিন সহজ ভাষায় ও তার নিজের জিনিস পছন্দ করার ক্ষেত্রে সীমিত চয়েস দিন। যেমন- ২ টা থেকে ১ টা বেছে নাও। সিদ্ধ ডিম খাবে নাকি ভাজা ডিম খাবে এই ধরনের প্রশ্ন ছুড়ে দিতে হবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে।

৬-১১ বছর:

  • এই বয়সী বাচ্চাদের সাথে কথা বলার সময় বের করুন।
  • তার সাথে কথা বলার সময় কিছুটা সম্মান বজায় রেখে কথা বলুন। সে শিখছে, এটা সবসময় মাথায় রাখতে হবে।
  • তার সাথে কথা বলার সময় সে যদি উত্তর নাও দেয় কথা বলা চালু রাখুন, এলোমেলো প্রশ্ন না করে নির্দিষ্ট ভাবে প্রশ্ন করুন।
  • তার কথা শুনুন, শুরুতেই তর্ক না করে আগে শুনুন সে কি বলতে চায়, তারপর তার বুঝার মত করে আপনার মতামত প্রকাশ করুন।
  • তাকে পরিবারের রীতিনীতি বুঝার জন্য সময় দিন। হুট করে কিছু চাপাতে যাবেন না।
  • যদি কিছু ভুল বলেন বা করেন তা স্বীকার করুন এবং হাসুন আপানার বাচ্চার সাথে।

১২-১৮ বছর:

  • আপনার অন্য শিশুকে নিয়ে কথা না বলে তার সাথে কথা বলুন। তার মতামতের গুরুত্ব দিন।
  • তার সাথে কথা বলার সুযোগ তৈরি করুন, যেমনঃ ফুটবল, ক্রিকেট, নতুন গাড়ি, টিভি অ্যাড, ভ্রমন, বন্ধু-বান্ধবি, এই বয়সে আপনি কেমন ছিলেন ইত্যাদি।
  • তার প্রাইভেসিকে গুরুত্ব দিন এবং তার বিশ্বাস বজায় রাখুন।
  • যদি আপনি তাকে বুঝাতে পারেন তার উপর আপনার বিশ্বাস আছে, এটা তাকে আপনার উপর আস্থা রাখতে সাহায্য করবে।
  • নিজের মত হউন। এখন আপনার বাচ্চা আপনার নিজস্বতাকে সম্মান দেবার মত যথেষ্ট বড়।

Leave a Reply

আরও পড়ুন