সাহিত্য

লাল ওড়না

গতকাল তোর ঘরের তোর বিছানায় আমার লাল ওড়নাটা ফেলে এসেছি।

তুই কি দেখতে পেয়েছিস! কোন কারণ ছাড়া একবারও কি হাতে তুলে নিয়েছিস ওড়নাটা! গোপনে কি একবারও তা বুকে জড়িয়ে ধরেছিস!

তুই কি জানিস সিক্ত, ওই ওড়নার সাথে সমাজের রক্ত চক্ষুকে অবজ্ঞা করে আমার আমি তোর ঘরে কি রেখে চলে এসেছি!

বলে দিচ্ছি শুনে জেনে রাখ, ‘যদি ভালো না বাসিস আমাকে, এই দেহে লাল ওড়না জড়াবো না কোনদিন..কোনদিন না..।

আমার লাল ওড়নাটি ফেলে এসেছি সিক্ত, তোর ঘরে.. তোর বিছানায়..

ছয় মাস পর

ভর দুপুর, ব্যাচেলর ফ্ল্যাটে শুধু সিক্ত আর রঙ্গিলা।

সিক্ত:

আমি আমার রঙ্গিলাকে ভালোবাসি। তার সবটুকুই ভালোবাসি। আমার জীবনের সব রং আমি রঙ্গিলার আলতা টানা পায়ে ঢেলে দিয়েছি।

জীবনে রং যদি না থাকে তবে সাদাকালো জীবন অভিসপ্ত। এমন জীবন নিয়ে আমি বাঁচতে চাই না।
আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারেবো না রঙ্গিলা।

রঙ্গিলা: তাহলে আয়, আজকেও রং মাখি..

সিক্ত: পলাশ চলে আসতে পারে..

রঙ্গিলা: আসুক, তুই অনেক রং লুকিয়ে রেখেছিস সিক্ত… পুরোটা পাই নাই সেদিন..

সিক্ত: হা হা হা হা.. তুই তো প্রথম দিনেও বলেছিস.. খুঁজে পেয়েছিস?

রঙ্গিলা: পেয়ে যাবো, সুরসুরি দিবি না.. আয়..

নয় মাস পর

সময়টা মধ্য রাত। মোবাইলে কথা বলছে রঙ্গিলা।

”আমার কিছু করার নাইরে সিক্ত। আমারে মাফ করে দিস। আমার কিছুই করার নাই আর। তোকে তো কতবার বললাম, আমার ভাতিজিরা আমার সমান প্রায়।”

”বাবা নাই আমার। মার বয়স হয়েছে অনেক.. ভাই আর ভাবিদের কথা শুনতে আমার ভলো লাগে না..”

”তাছাড়া আমি কিছুই জানতাম না.. আামাকে জোড় করে ধরেই আকদ করায়ে নিছে.. তুই আমাকে মাফ করে দে সিক্ত.. তোর রঙ্গিলা যেখানেই থাকুক তোর জন্যে মঙ্গল কামনা করবে..”

পরের দিন

রোদের তাপ বাড়তে শুরু করেছে মাত্র। সিক্তের রুম ম্যাট পলাশ বেশ কিছুদিন পর গ্রামের বাড়ি থেকে আজ ফ্ল্যাটে ফিরছে। রুমের ভেতর থেকে লোকজনের গুঞ্জন।

ভেতরে ঢুকে দেখতে পায়- ফ্যানের সাথে রঙ্গিলার লাল ওড়নায় ঝুঁলে আছে সিক্ত।

একজন কনস্টেবল চেয়ারের ওপরে দাঁড়িয়ে হাতের কলম দিয়ে সিক্তের মুখটা তুলে ইন্সপেক্টরকে জানায় -‘’মাঝ রাতের ঘটনা স্যার’’।

ইন্সপেক্টর সাহেব টেবিলের ওপর একটি চিরকুট দেখতে পান। তাতে লিখা-

”এখন কি বুঝবি! এখন প্রমাণ হলো কি, আমি তোকে ছাড়া যে থাকতে পারবো না!”

”আমার কথা ভুলে যাসনা রে রঙ্গিলা। আমি তোকে প্রচণ্ড ভালোবেসেছি। আমার সবকিছুতেই তুই।”

”আমি আমাকে আয়নাতে দেখতে গেলেও আমাকে আমি দেখতে পাই না! সেখানেও তোর মুখটা আমার চোখের সামনে ভাসে। কি করে থাকবো তোকে ছাড়া!”

”এভাবে কেউ ভালোবেসে চলে যায় নাকি! কি করে পারলিরে রঙ্গিলা! কেমনে পারলি!”

লেখক: কমল হাসান জাহিদ, কবি, সাহিত্যিক ও টিভি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন