অফবিট

মৌসুমী ফল লটকনের পুষ্টিগুণ

বর্ষা মৌসুমে সহজলভ্য ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লকটন ফল। দেখতে গোলাকার ও হলুদাভ এই ফলটি স্বাদ, পুষ্টি ও ঔষধিগুণে ভরপুর।

ফলটি সরাসরি বা জ্যাম তৈরি করেও খাওয়া যায়। টক-মিষ্টি মিশ্রিত এক স্বাদের ফল এটি। লটকনকে ইংরেজিতে বার্মিজ গ্রেপ বলা হয়।

তবে বাংলায় এর বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে। যেমন- হাড়ফাটা, ডুবি, বুবি, কানাইজু, লটকা, লটকাউ, কিছুয়ান ইত্যাদি।

লটকন বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় এটি বুনো গাছ হিসেবে জন্মায়।

স্বাদে পরিপূর্ণ লটকনের পুষ্টিগুণ:

প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনের কোয়ায় খাদ্যশক্তি থাকে প্রায় ৯২ কিলোক্যালরি, যা জাতীয় ফল কাঁঠালের প্রায় দ্বিগুণ।

লটকন গাছের শুকনো গুঁড়ো পাতা ডায়রিয়া বেশ দ্রুত উপশম করে। এর গাছের পাতা ও মূল খেলে পেটের পীড়া ও পুরনো জ্বর নিরাময় হয়। এমনকি গনোরিয়া রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এর বীজ।

লটকন খেলে বমি বমি ভাব দূর হয় সহজেই। তৃষ্ণাও নিবারণ করে। মানসিক চাপ কমায় এ ফল। এছাড়া ছাল ও পাতা খেলে চর্মরোগ দূর হয়।

লটকনে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম, যা দেহ গঠন ও কোষ কলার সুস্থতায় কাজে লাগে। এসব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও ভিটামিন বি-২ আছে যথাক্রমে ১০. ০৪ মিলিগ্রাম ও ০.২০ মিলিগ্রাম। পাকা লটকন খাদ্য মানের দিক দিয়ে খুবই সমৃদ্ধ।

লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ আছে। সিজনের সময় প্রতিদিন দুই-তিনটি লটকন খেলে দৈনন্দিন ভিটামিন ‘সি’র চাহিদা পূরণ হবে। চর্বি, আমিষ, লৌহ ও খনিজ পদার্থ থাকে লটকনে।

এ ফলে ক্যালরি ও ফ্যাট কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বেশ উপকারী একটি মৌসুমী ফল লটকন।

দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতেও সাহায্য করে। মোটা বা অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিতরা লটকন খেতে পারেন।

পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপকারী খনিজ উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রক্ত ও হাড়ের জন্য বিশেষ উপকারী আয়রন থাকে লটকনে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন