মেসি ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় !

আফনান সারাহ: লিওনেল মেসি একজন ফুটবলার এ কথা সবার জানা। তাই তিনি ক্রিকেট ছেড়ে দিলে কি হবে, সেই প্রশ্নটি গুরুত্বহীন। তবে বিশ্ব রাজনীতিতে এমন অনেক গুরুত্বহীন বিষয় আছে, যাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আমরা বিবেচনা করে থাকি ও জানি। তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমেরিকার অলিম্পিক বয়কটের ঘটনা।

কিছুদিন আগে চীনের এক নারী টেনিস খেলোয়াড় টুইটারে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। ব্যস, এতেই চীনের মানবাধিকার নিয়ে হইচই শুরু করে পশ্চিমা গণমাধ্যম।

এরপর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি টমাস বাখ নিজে অনলাইনে সেই টেনিস তারকার সঙ্গে দেখা করে নিশ্চিত হয়েছেন যে ওই নারী নিরাপদে আছেন ও ভালো আছেন।

তবে এতে আশ্বস্ত না হয়ে বরং বেজায় ক্ষেপে গেছে আমেরিকা। চীনের আসন্ন অলিম্পিক খেলা বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছে দেশটি। ওই নারী খেলোয়াড় যতই বলছেন তিনি নিরাপদে আছেন আমেরিকার তা বিশ্বাস হচ্ছে না।

সমালোচকরা বলছেন, যৌন হয়রানি আর আসন্ন চীনা অলিম্পিক নিয়ে জটলা পাকানোর মতো চমৎকার একটি ইস্যু আমেরিকার হাতছাড়া হয়ে গেছে। এতেই নাকি ক্ষিপ্ত হয়েছে আমেরিকা।

এদিকে আমেরিকাও কম চালাক নয়। তারা অলিম্পিক খেলা বর্জন করেনি। তারা শুধু কূটনৈতিকভাবে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। মানে কূটনীতিকরা যাবে না।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে অলিম্পিক কমিটি কখনো কূটনীতিকদের আমন্ত্রণই করে না। যেসব দেশ অলিম্পিকে অংশ নেয়, সেসব দেশের কূটনীতিক চাইলে নিজ দায়িত্বে সফর করতে পারেন। তবে অলিম্পিক কমিটি শুধু স্বাগতিক দেশের কুটনীতিকদের আমন্ত্রণ করে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে আপনাকে দাওয়াতই দেয়া হবে না, সেই দাওয়াত আপনি বর্জন করবেন কিভাবে? উত্তরটি হচ্ছে, মেসি যেভাবে ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দেবেন, সেভাবে!

উল্লেখ্য, মেসি প্রায়শই বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসাবে বিবেচিত এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন হিসাবে বিবেচিত। তিনি টানা চারবারসহ মোট সাতবার ব্যালন ডি’অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ছয়বার ইউরোপীয় সোনালী জুতো জয়েরও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

Leave a Reply