ক্রিটিকস

সৌদি আরব-চীনে মার্কিন ডলারের দিন শেষ !

নুসাইবা ফাইজা:

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তেল-গ্যাস জ্বালানি নিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরাসরি রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তার মিত্রদের কেউ রাশিয়ার ওপর কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন।

এমন অবস্থায় তেল-গ্যাস সহ জ্বালানি নিয়ে প্রায় মাথাব্যথা শুরু হয়েছে ইউরোপের দেশগুলোতে। ইউরোপের এই মাথাব্যথা উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

আমেরিকার ওপর বিভিন্ন কারণেই নাখোশ ছিল সৌদি আরব। তবে সেটি ছিল আলোচনার টেবিল পর্যন্ত তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের অভিযানের পর সেই ক্ষোভের বহি:প্রকাশ দেখালো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এবার ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ানে’ কিছু পরিমাণ তেল বিক্রির কথা ভাবছে সৌদি সরকার। গত ছয় বছর ধরেই এই আলোচনা চলছিল তবে সম্প্রতি এই আলোচনায় গতি এসেছে।

জানা গেছে, বাইডেন প্রশাসনের ওপর অসন্তোষ ছিল সৌদি আরব। এ ছাড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে ওয়াশিংটন নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রাখা, সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিন্দাসহ সৌদির নিরাপত্তায় আমেরিকার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলো রিয়াদ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের ৮০ শতাংশ তেল ডলারে বিক্রি হয়। পেট্রোডলার সিস্টেমের প্রতি আনুগত্যের বিনিময়ে ওয়াশিংটন রিয়াদকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে ১৯৭৪ সালের পর থেকে সৌদি মার্কিন মুদ্রায় তেল বিক্রি করে আসছে। প্রায় অর্ধ শতাব্দি ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে ডলার বিনিময় ব্যবস্থা।

তবে ডলারের পরিবর্তে চীনা ইউয়ানে তেল বিক্রির খবরটি মার্কিন প্রভাবকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

জানা গেছে, চীন নিজেদের তেলের এক চতুর্থাংশ সৌদি আরব থেকে ক্রয় করে। এর মানে হলো যদি সৌদি ইউয়ানে তেলের মূল্য নেয় তাহলে চীনা মুদ্রার আন্তর্জাতিক প্রোফাইল সমৃদ্ধ হবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানির কিছু অংশ ডলার ছাড়া অন্য কোনো মুদ্রায় বিক্রি করলে সেটি সৌদি আরবের জন্য উল্লেখযোগ্য বড় সিদ্ধান্ত হবে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়কালে মার্কিন-সৌদি সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনার পর ২০২০ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় বাইডেন সৌদি আরবকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন তার জেরেই এই দূরত্ব।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করেন, খাশোগিকে হত্যায় নির্দেশদাতা যুবরাজ মোহাম্মদ।

গত মাসে বাইডেন এবং সৌদি বাদশাহ সালমানের মধ্যকার একটি ফোনালাপে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন যুবরাজ সালমান।এমনকি মার্কিন-সৌদি অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও অবনতি হচ্ছে।

ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল সৌদি তেল আমদানি করত। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ব্যারেলেরও নিচে।

সৌদি যদি চীনের কাছে তাদের তেল ইউয়ানে সফলভাবে বিক্রি শুরু করে, তাহলে– অ্যাঙ্গোলা, ইরাক ও রাশিয়ার ক্ষেত্রেও সেটির অনুকরণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে এশীয় অঞ্চলে ডলারের প্রভাব প্রবলভাবে ক্ষুন্ন হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে ইউরোপের দেশগুলোকে রাশিয়ার মুদ্রা রুবল এর মাধ্যমে তেল গ্যাস আমদানি করার শর্ত দিয়েছে ক্রেমলিন। ইউরোপের প্রায় ২৫ ভাগ জ্বালানি সরবরাহ করে রাশিয়া। ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুতিন প্রশাসন।

Leave a Reply

আরও পড়ুন

যেভাবে ক্ষমতা ছেড়েছিলেন পাকিস্তানের ২২ প্রধানমন্ত্রী

আফনান জাহান: চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে […]