সাহিত্য

ভীষণ নিবিড়তায়

পরিচয় পর্বের চার-পাঁচ মাস গত হয়েছে বোধ হয়। এমন সহজ সরল মনের মানুষের অভাব! বলা যেতে পারে সেই হৈমন্তী গল্পের এ এক জীবন্ত অধ্যায় !

অত্যন্ত পরোপকারী, সহজ-সরল মনোভাব, কষ্টসহিষ্ণু, অন্যের স্বার্থে নিবেদিত প্রাণ এক! ভীষণ পরিশ্রমী তারপরও কোন ক্লান্তি নেই ! সর্বদা মুখে লেগে থাকে প্রাণবন্ত হাসি;

যা কিনা হৃদয়ে প্রশান্তির ছোঁয়া দিয়ে যায়! মানুষের মনকে মাতিয়ে রাখার মতো প্রবল সম্মোহনী শক্তি আছে হয়তো! হাসিতে ভরপুর; কথায়-কাজে মনকে আকৃষ্ট করে রাখতে পারে ভীষণ!

মনেতে ধরে মনের নেশা! তাই বেশির ভাগ সময় কেটে যায় গল্প-কথায় দূর থেকেই! ভাগ্য সুপ্রসন্ন যে চাহিদা অনুযায়ী এযুগ বেশ অনুকূলে; মন চাইলেই দূর- হয় নিকট;

প্রিয় মানুষকে দেখে-দেখে বলা যায় কথা নিরবধী ! অতি সহজে ভাব বিনিময় বা ভাবের প্রকাশ করা যায় খুব সহজে ; নিমেশেই ছুঁয়ে দেয়া যায় মনের গভীরকে !

দু’জনের কথামালা একতানে বেজে ওঠে; ধরা পড়ে স্বপ্ন ধরায়! তারা কল্পলোকে খুঁজে যায় নতুন কিছু;

এভাবে….

“ এই জানো তো? ইদানিং আমাদের তেমন কিছু লেখা হয়ে ওঠে না। সময়ের পর সময় চলে যায়, আমাদের নানা কথামালায়। আমাদের সময় বয়ে চলে আলাপচারিতায়, নাহ্ ; কিছুটা ভুল হল, শুধু আলাপচারিতায় নয় ; নেশা ভরা চোখে তাকিয়ে থেকে! আসলে সবকিছু যেন প্রকাশ করা যায় না। তবে একে অন্যের অনুভূতিটুকু বুঝে নেওয়া যায় সহজে! কি ঠিক বলেছি-না বলো?

জানো! কখনো-কখনো আকাশে উড়ে বেড়াতে ইচ্ছা করে হাতে হাত ধরে। কখনো ছুটে বেড়াতে ইচ্ছে করে বহুদূরে, ভেসে বেড়াতে ইচ্ছে করে সাদা মেঘের ভেলায়! এই শহর; ঐ শহরের অলিগলিতে নিজেদের সাজাতে ইচ্ছা করে।

এই শোনো! যখন আমরা চাঁদের আলোতে মেঘের সঙ্গী হবো; তখন তোমার হাসি দেখবে অপলকে; চাঁদের হাসি দেখব না; দেখে নিও । আমরা দূর-দূরান্তে যাব; জল দেখবো,জলের ঢেউ দেখবো,জলের মাঝে ছায়া দেখব ; চাঁদের আলোর মায়া দেখবো। সকল সৌন্দর্য আমাদের চোখে দিবে ধরা অনায়াসে । তুমি যেন হারিয়ে না যাও ; বাঁধব দু’জন মনের বাঁধন শক্ত হাতে !

কল্পানাতে পরী হবে; স্বপ্নগুলোর থাকবে পাখা ! দু’জনে উড়ে-উড়ে ভালোবাসার নীড় খুঁজবো। চোখের পলকে দিগন্ত গুলো হবো পার। চোখে চোখ রেখে হারিয়ে যাব একে অন্যে….. দূর হতে বহু দূরে….”

এভাবেই মনের অজান্তে দিনে-দিনে অাবেগী হয়ে ওঠতে থাকে দু’টি অচেনা মানুষের চেনা-চেনা সময়! সময়ের হাত ধরে মিটে যায় কত আবেদন! সবকিছু বিবেচনা করলে মনে হবেনা তারা বাস্তবে একে অন্যকে দেখেনি কখনো! সত্যি অবিশ্বাস্য মনে হয়! হয়তো দু’জনে কি যেন খুঁজে ফেরে সারাক্ষণ! সবকিছুই আছে তবুও কি যেন নেই !! তাই বুঝি কিছু একটা খুঁজে নেয় তারা- তাদের আপণ আঙ্গিনায় ! জীবন চলে জীবনের নিয়মে -থাকেনা থেমে কোন কারনে কিংবা কোন বারনে ….!! এমনভাবে জড়িয়ে থাকা অনুভূতির শেষ জানতে চায় কখনো-কখনো!

কখনো হারায় তারা ভীষণ নিবিড়তায়……..!!!

লেখক: মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ, টিভি ও বেতার সংবাদ উপস্থাপক, গীতিকার বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার, কবি, আবৃত্তিশিল্পী, নাট্যকর্মী ও বেতার ঘোষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন