ভিউস

বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট-গুল খায় আমাদের ফ্ল্যাটের জ্বিন !

রাজধানী ঢাকাতে দীর্ঘদিন সিঙ্গেল ফ্ল্যাটে ছিলাম। ২০২১ সালে ডিসেম্বরে কলিজার টুকরো আব্বা মারা যাওয়ার পরের মাসে অর্থাৎ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মাকে ঢাকায় নিয়ে আসি।

তাই সিঙ্গেল ফ্ল্যাট ছেড়ে ওই বাড়ির তৃতীয় তালার একটি ফ্ল্যাট (জানুয়ারী থেকে) ভাড়া নিলাম। দুই বেড রুম, এক বেলকনি, এক বাথরুম, ডাইনিং স্পেসসহ একটি কিচেনরুমবিশিষ্ট তৃতীয় তালার ফ্ল্যাট।

ফ্ল্যাটের বর্ণনা শেষে এবার আসি মূল ঘটনায়। ১৮ জুলাই সোমবার। আমার ডেঅফ থাকায় রুটিনমাফিক সকাল ১১ টায় ঘুম থেকে উঠলাম।

পরে হালকা নাস্তা সেরে বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে বের হলাম। আর মা রুম তালা দিয়ে বের হলো এক ফুফির সাথে দেখা করতে যাবে বলে।

মায়ের সাথে আমার কমিটমেন্ট ছিলো যে, আছরের মধ্যে ঘরে ফিরবে মা । আমিও ওই সময়ের মধ্যে ফিরবো।

যদিও মা আছরের পরে ঘরে ফিরেছে কিন্তু আমি রাত ৮ টার পরে ফিরলাম (এরমধ্যে বাহিরে সাংসারিক টুকটাক অনেক কাজ করেছি) ।

ঘরে ফিরতেই মা বললো, তোর বেড ঝাড়তে গিয়ে তোর রুমে সিগারেটের গোড়া পেয়েছি। কিন্তু আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে, তুই সিগারেট খাস।

মায়ের সামনে মাথায় হাত দিয়ে বললাম, লাহাওলা কুয়াতা… আস্তাগফিরুল্লাহ। পরে দেখলাম, ওই সিগারেটটি ভিনদেশি ব্র্যান্ড!

মাকে বললাম, মা তুমি কিভাবে বিশ্বাস করতে পারলে আমি সিগারেট খাচ্ছি, তাও বিদেশি ব্রান্ড! মা তুমি তো জানো, আমার সামনে কেউ সিগারেট খেতে পারে না।

আমি সিগারেটের ধোয়া সহ্য করতে পাড়ি না। এমনকি যারা পথে ঘাঁটে সিগারেট খায় তাদের ধরে ধরে বোঝানো পাবলিক আমি।

পরে মা অবাক হয়ে বললো.. নাহ্ আমারও বিশ্বাস হচ্ছে না তুই সিগারেট খাচ্ছিস। আবার কিচেন রুমে পেলাম নেশাজাতীয় গুলের প্যাকেট। তাহলে এসব কে খেলো?

বড্ড চিন্তায় পড়ে গেলাম আমরা। মা বললো, তুই-আমি একসাথে রুম তালা দিয়ে বের হলাম। তাহলে এসব কিসের লক্ষণ?

আমি সাথে সাথে বললাম, মা নিশ্চয়ই আমাদের রুমে নেশাখোর কোন জ্বিন আছে।

মাকে আরো বললাম, জ্বিনদের মধ্যে নাকি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান আছে। ভালো-খারাপ আছে। তাহলে তো ওদের মধ্যে কেউ নেশাখোরও হতে পারে।

এটা তো কোন অযৌক্তিক কিছু না। আমার কথা শুনে মা খুব হাসলো। এবার মা সুর নরম করে বললো, হ্যাঁ।

এমনটা তাহলে হতে পারে, কথায় যুক্তি আছে। পরে প্রায় কয়েক ঘন্টা জ্বিন নিয়ে আমি, মা আর খালাতো ভাই রিফাত আলোচনা করলাম।

তারপরে ডিনার শেষে মায়ের রুমে সারা রাত বাতি জ্বালিয়ে মা ঘুমাচ্ছেন। আর আমি ভয়ে কিচেন রুমের বাতি সারা রাত জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছি।

এখন শুধু মাথায় একটা জিনিসই ঘুরপাক খায়, আমাদের তালা মারা ফ্ল্যাটে তো কেউ আসেনি। তাহলে ভিনদেশি সিগারেট আর নেশাজাতীয় গুল কে খেলো?

এরপর থেকে যখন রুমে একা থাকি তখন শরীরের লোম দাড়িয়ে যায়, মনে হয় এই বুঝি নেশাখোর জ্বিন এলো! কেমন যেন একটু ভয় কাজ করছে..

কলমে: মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা, সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাব-এডিটরস কাউন্সিল। সম্পাদক, বাউফল প্রতিদিন ডট কম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন

পুরস্কার প্রাপ্তি অনুপ্রেরণা ও দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়

৩১ জুলাই রোববার দিনটি আমার জন্য আনন্দের। কারণ এদিন কাজের […]