সম্পর্ক

বাবার হাত ধরে আরও অনেক দূর যেতে চাই

প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস পালন করা হয়। আমি আবার এসব দিবস টিবস বিশ্বাস করি না আর ভালোও লাগে না।

তবে পহেলা বৈশাখ ও বসন্ত বরণের কথা আলাদা। এই দুই উৎসব ঘটা করেই পালন করি। বিশেষ করে বসন্তের প্রথম দিনটি বেশ আনন্দ ও উৎসবে মেতে উঠি।

১৯ জুন সকালে অনলাইন পত্রিকা দেখতে গিয়ে দেখলাম বাবা দিবস নিয়ে লেখার ছড়াছড়ি। আমারও মন চাইল কিছু লিখি।

তখন আমি বেশ ছোট। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে কেউ ছিল না। ২০০৫ এর পর বাবা-মার কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে এলো রুপা।

ততদিন আমি একাই আব্বু- আম্মুর আদর, ভালোবাসা পেয়েছি। আর আমাকে ঘিরেই তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ঘূর্ণায়মান ছিল।

আব্বুর তখন বরিশালে পোস্টিং ছিলো। প্রত্যেক বৃহস্পতিবার অফিস করে সন্ধ্যার পর বাড়ি আসতেন।আর ততক্ষণে আমি ঘুমিয়ে যেতাম।

তার মানে আব্বুর সাথে আমার দেখা হতো শুক্রবার সকালে। যা হোক এবার আসি মূল কথায়।

একদিন শুক্রবার সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে দেখতে পাচ্ছি আমার দুই পা লাল রঙের আলতা দিয়ে ভরা।

আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। বার বার দেখছি আর নিজে নিজেকেই প্রশ্ন করছি এগুলো কি?

আব্বু পাশেই ঘুমানো। আর আম্মু সকাল বেলা সবার নাস্তার ব্যবস্থা করছেন। আমি বিছানা না ছেড়ে আমার পাগুলো দেখেই যাচ্ছি অনেকগুলো কৌতুহল নিয়ে।

কিছুক্ষণ পর আম্মু এসে শুধু মিট মিট করে হাসছেন আর আব্বুকে ডাকছেন। আব্বু ও উঠে হাসছেন আর জিজ্ঞাসা করছে ”কি বাবা তোমার কেমন লাগছে?”

লেখকের পিতা মোঃ মাঈনউদ্দীন সরদার, সাবেক সিনিয়র অডিটর আগৈলঝাড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস

আমি মুখে কোন উত্তর দিতে পারি নি। তবে মন খুশিতে ভরপুর ছিল আর চোখে মুখেই তার উত্তর ছিল। যেটা আব্বু চাইছিলেন।

পরে আম্মুর কাছে শুনলাম আসল কাহিনি। আব্বু বৃহস্পতিবার রাতে যখন বাড়ি ফিরেছেন তখন একটা আলতার কৌটা নিয়ে আসছেন।

আর এসেই প্রথমে আমি ঘুমন্ত অবস্থায় নিজ হাতে খুব যত্ন সহকারে ওই আলতা পরাইছেন আমাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য।

আম্মু নাকি বার বার মানা করছেন যে “এখন দেয়ার দরকার নাই।” আব্বু কোন কথাই শোনেন নি। একটাই কথা সকালে আমার হাসি মুখ দেখবে।

চোখে মুখে খুশির ঝলক দেখবে। এটা লেখা মাধ্যমে ওইভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। তবে বাস্তব চিত্র আরো অনেক সুন্দর ছিল।

এ রকম হাজারো ঘটনা আছে আব্বুকে নিয়ে। তবে আব্বু এখন আর আগের মতো নেই। মাথায় অনেক দায়িত্ব।আমরা পাঁচ ভাই-বোন। সবাইকে নিয়ে অনেক টেনশনে থাকেন।

একজন বাবা তার সন্তানদের কাছে বটগাছের মতো। প্রত্যেকটা সন্তান এই বটগাছের ছায়ায় থাকতে চায়।

আব্বুকে দেখছি আমাদের একটু ভালো রাখার জন্য প্রচুর খেটে যাচ্ছেন। উনার এই প্রতিদান আমরা কোন দিন দিতে পারবো কিনা জানি না। কারণ বাবাদের ঋন কখনো শোধ করা যায় না।

আজকের দিনে শুধু একটা কথা বলবো আমার বাবা সুস্থভাবে হাজার বছর বেঁচে থাকুক।

আজকের মতো সারাজীবন বাবা তার দায়িত্বে বহাল থাকবেন। সাথে আমরা ভাই বোনেরা আব্বুর সহযোগী হতে চাই।

আব্বুর হাত ধরে আরও অনেক দূর যেতে চাই। যেখানে গেলে আব্বুর চোখে মুখে খুশির ঝলক দেখতে পাবো।

এমন একটা সময় ও দিন চাই আল্লাহ পাকের কাছে।দোয়া করবেন আমার আব্বুর জন্য।

আল হাদিসে আছে, “পিতার আনন্দে খোদার আনন্দ এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে খোদার অসন্তুষ্টি”।

ভালো থাকুক পৃথিবীর সব বাবারা।

 

কলমে: সালমা খানম, ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রসিডেন্ট ক্রিস্টাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন