ভিউস

বাবার মৃত্যুর পর কোন ইচ্ছার কথাই জানাতে চাইতো না রিংকি

সময় কত দ্রুত চলে যায়, সময়ের ফেরে ও জীবনের ব্যস্ততায় ডুবে গিয়ে কত দ্রুত হারানো আপন মানুষগুলোকে ভুলে যাই আমরা।

আমার ছোট বোন মনিরা আক্তার (রিংকি) মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে চলে যায় ২০১৪ সালের ২১ জুন।

দেখতে দেখতে ৮ টি বছর গত হয়ে গেল। আমাদের তিন ভাই বোনের মধ্যে রিংকি ছিল আমার ইমিডিয়েট ছোট অর্থাৎ আমি আর রিংকি ছিলাম পিঠাপিঠি ভাইবোন।

ছোট বেলায় দুই ভাই বোনের ঝগড়া, খুনসুটি চলতো বেশ, আমাকে তো কোন কিছু নিয়ে না বনলে খামচি দিতোই উপরন্তু আব্বা অফিস থেকে বাসায় ফেরার সাথে সাথে আমার নামে বিচারও দিতো ।

আব্বার কাছে এই অভিযোগ দিতো যে “বড় ভাই আমাকে মারছে”।

আমাদের সবার ছোট ভাই মেজবাহ উদ্দিন ( Mezba Uddin ) মিঠুকে আল্লাহ তাআ’লা যখন দুনিয়ায় পাঠালেন রিংকি ঐদিনই মিঠুকে চকলেট খাওয়াতে চায়।

“আম্মাকে বলে ভাই খালি কান্দে (কান্না) কেন, ওকে চকলেট দাও তাইলে আর কানবে (কান্না) না।”

পরলোকগত মনিরা আক্তার রিংকি

আমি গুঁড়ো দুধ খেতে পছন্দ করতাম, রিংকিকে বলতাম “মিঠুর ডানো দুধের ডিব্বা থেকে গুড়ো দুধ নিয়ে আমরা লুকিয়ে লুকিয়ে খাবো, তুই কিন্তু আব্বা-আম্মাকে বলবি না। “

আমরা দুইজন মিলে মিঠুর জন্য আনা গুড়ো দুধ চুরি করে খাইতাম। যেই আম্মা টের পেতো রিংকিকে বলতো সত্যি করে বল, সত্যি বললে তোকে কিছু বলবো না।

রিংকি গড়গড় করে বলে দিতো “বড় ভাই খাইছে আমি কিছু জানি না।”

আমার আদরের ছোট বোন রিংকি। আব্বু সরকারি চাকুরীজীবী ছিলেন, সীমিত বেতনে চলতে হতো সরকারি কোয়ার্টারের বাসায়।

আমাদের তিন ভাই বোনেরও চাহিদা তেমন ছিল না, আমরা কখনোই বাবা-মাকে বলতে সাহস পেতাম না আমার এইটা লাগবে,ওইটা লাগবে।

আমার ছোট বোনটা ছিল খুব চাপা স্বভাবের। প্রতি বছর রিংকির ঈদের ড্রেস আমরা কয়েকদিন মার্কেট ঘুরে কিনতাম। ড্রেস কিনে বাসায় আসার পর যদি ভুল করে কেউ বলেছে যে ড্রেসটা সুন্দর হয়নি তখন কে দেখে রিংকির কান্না।

বামে থেকে ফয়েজ উদ্দিন মাঝে মনিরা আক্তার রিংকি ও ডানে মেজবাহ উদ্দিন মিঠু

বাবা মারা যাওয়ার পর আমার বোনটা আরও চাপা স্বভাবের হয়ে যায়। কখনোই মনের কোন ইচ্ছার কথা জানাইতে চাইতো না।

আমি যখন টিউশনি শেষ করে ক্লান্ত হয়ে বাসায় আসতাম তখন আমার জন্য এক গ্লাস পানি এনে কাছে এসে বলতো “বড় ভাই তোর মনটা খারাপ কেন? আরে বড় ভাই চিন্তা করিস না সবতো ভালোই চলতেছে।”

বাবা মারা যাওয়ার পর বেশ কয়েক বছর সংসারের খরচ, তিন ভাই বোনের পড়ালেখার খরচ সব মিলিয়ে খুব কষ্টই হতো।

আমি যতো রাতেই ফিরতাম না কেনো রিংকি বলতো “হাতমুখ ধুয়ে আয় খাবার দিচ্ছি।”

বোনটা নাই, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দান তার দুইটি মেয়ে আছে। আম্মা ও আমরা দুই ভাই রিংকিকে হারানোর কষ্ট কিভাবে বুকে চেপে দিনাতিপাত করেছি তা একমাত্র আল্লাহই জানে।

সবাই আমার ছোট বোন মনিরা আক্তার রিংকির জন্য দোয়া করবেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেনো রিংকিকে বেহেশত নসীব করেন, আমিন।

কলমে: ফয়েজ উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন

সিলেট-সুনামগঞ্জ বানভাসীর পাশে তিতাস-দাউদকান্দিবাসী

স্মরণকালেল সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পুণ্যভূমি খ্যাত সিলেট ও সুনামগঞ্জের […]

বিশ্ব গণমাধ্যমে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের খবর

আট বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় তিন কোটি […]