সাহিত্য

প্রিয় অভিমান

 

প্রিয় অভিমান

অভিমান,

অভিধানের ছোট্ট একটি শব্দ বটে –

তবে মানুষকে নিমিষের নিষ্প্রভ করার অসীম ক্ষমতা,

শুধু যেন অভিমানেরই আছে।

 

আমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অভিযোগ

তোমার বড্ড বেমানান,

শব্দেরা হারিয়ে কখনো হয়ে যায় নির্বাক,

সৃষ্টির মাঝে এ কোন মহাপ্রাণ?

 

মনে পড়ে?

আমি যখন বারবার –

ভালোবাসি ভালোবাসি বলতাম,

তুমি বলতে, ‘অতিরিক্ত কিছুই ভালো না “

তাই আমি অতিরিক্ত ভালোবাসি বলা বন্ধ করলাম।

 

এই আমি যখন সারাদিন কথা বলতে চাইতাম,

তোমার একটা ফোনের অপেক্ষায় বসে থাকতাম!

বলতো তুমি, “ভীষণ ব্যস্ত আমি”

আমিও তাই আবেগহীন হয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠলাম।

 

তোমার একটা ভালোবাসি টেক্সট এর

অপেক্ষায় কখনো আমি আকুল হয়ে উঠতাম,

দীর্ঘ সময় কথা বলতে না পারার তীব্রতায়

অভিমান করতাম,

তুমি বলতে, “কথায় কথায় রাগ করা ছাড়তে হবে।”

তাইতো আমি নিজেকে বদলে নিলাম।

 

তোমাকে যখন আমি অন্য কারো সাথে ভাবতাম,

কারণে অকারণে শুধু তোমাকে আঁকড়ে ধরতে চাইতাম,

বলতে তুমি, “বাস্তবতা মেনে নিতে শিখো “

আমিও তাই তোমাকে শেয়ার করতে শিখে নিলাম।

 

কখন আমি জিজ্ঞাসা করতাম,

ছেড়ে যাবে নাতো?

তুমি বলতে “ভবিষ্যৎ এত ভেবোনা “

তাইতো আমি বর্তমানকে আঁকড়ে ধরতে শিখলাম।

 

কিছুদিন পর তুমি যখন চলে যেতে চাইলে,

আমি বললাম, “যেতে পারো আটকাবো না”

তোমার ব্যস্ততা এখন আমাকে আর কষ্ট দেয় না –

হয়তো তুমি বুঝে নিলে আমি বাস্তবতা

মেনে নিতে শিখেছি।

 

কিন্তু, আজ তোমার চোখের কোনণে জল কেন?

আমার পরিবর্তন তোমার মানতে কষ্ট হচ্ছে বুঝি?

শুধু আজ তোমায় কিছু বলার বাকি,

তুমি হয়তো ভালোবাসা শুধু শব্দ হিসেবে জানো,

কখনো আমাকে অনুভব করতে পারোনি।

 

আমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভালোবাসাগুলো

তোমার কাছে ছিল ন্যাকামি,

কিন্তু জানো তো?

তোমাকে আটকে রাখার একমাত্র অবলম্বনই

ছিল আমার সেটি।

 

সত্যি বলতে এখন আর অভিমান হয় না,

অভিমান হয় শুধু মৃত্যুর আলিঙ্গনে –

জীবন পাতার শেষ পৃষ্ঠার প্রচ্ছদপটে,

হয়তো তবুও আর ফিরবো না!

 

তবু ও যদি তুমি,আবার আসি ফিরে,

বলবো আমি, “চলো হাত ছেড়ে শূন্যতা ধরে হাঁটি “

তারপর?

তারপর! ঠিক করে নেবে,

আজীবন শূন্যতা না আমি??

ঠিক করে নেব, “আজীবন শূন্যতা না তুমি?? “

 

লেখক: নিপুন দাস’, শিক্ষিকা, কবি, লেখিকা, উপস্থাপিকা ও আবৃত্তিশিল্পী!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন