ভিউস

পিতার অবদানে ডাউকি সেতু পুত্রের পদ্মা সেতুতে

যারা সিলেটের জাফলং জিরো পয়েন্ট ঘুরতে যান, তারা সেখানে ভারতের একটি ঝুলন্ত সেতু দেখতে পান। এই সেতুটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৩২ সালে। সেতু নির্মাণে প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন সিলেটের সন্তান আবিদ রেজা চৌধুরী।

সেতুটি নির্মাণের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। ১৯১৯ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলং বেড়াতে এসেছিলেন। এটা শুনে তৎকালীন শ্রীহট্টে (বর্তমান সিলেট) কবিকে নিয়ে আসার তোড়জোর শুরু হয়।

তখন শিলং ছিলো আসামের রাজধানী আর সিলেট ছিলো আসামের একটি জেলা শহর। এখানে যাওয়ার রাস্তা ছিলো দুর্গম। মানুষ পার হতো মানুষের পীঠে চড়ে!

কিন্তু রবীন্দ্রনাথ মানুষের পীঠে চড়ে এভাবে আসতে রাজী হননি। তাই অনেকটা ঘুরে ট্রেনে করে তিনি সিলেটে আসেন গৌহাটি-বদরপুর-লাতু (বড়লেখার শাহবাজপুর)-কুলাউড়া পথ দিয়ে।

এরপরই সিলেট-শিলং সরাসরি সড়ক পথটি নির্মাণের আলোচনা জোরালো হয়। তখনকার প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ও মন্ত্রী সিলেটের বুরঙ্গা গ্রামের বসন্ত কুমার দাস বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন।

কিন্তু উমগট নদীতে খাসিয়া ও জৈন্তিয়া পাহাড়কে যুক্ত করার কাজটি ছিলো বেশ কঠিন।

অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী

তখন আবিদ রেজা চৌধুরী নামের এক প্রকৌশলী শিলংয়ে চাকরি করছিলেন। তার উপরই পড়ে সেতুর নকশার ভার। ১৯৩০ সালে আবিদ রেজার নকশা, নির্দেশনায় তৈরি হয় এই সেতু।

দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে ৯০ বছর আগে তৈরি হয় সরাসরি যোগাযোগের পথ, যা আজও চলামান।

গল্পটি এই সময়ে প্রাসঙ্গিক কারণ আবিদ রেজার পুত্র অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীও আরেকটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ইতিহাসে নাম উঠালেন।

প্রয়াত জামিলুর রেজা ছিলেন পদ্মা সেতুর প্রধান পরামর্শক। মানুষের চলাচলের ব্যবস্থাকে সহজ করে দেওয়া দুই কীর্তিমান পিতা-পূত্রকে শ্রদ্ধাভরেই স্মরণ করবে মানুষ।

কলমে: সাইফ নাসির, লেখক সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন

পুরস্কার প্রাপ্তি অনুপ্রেরণা ও দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়

৩১ জুলাই রোববার দিনটি আমার জন্য আনন্দের। কারণ এদিন কাজের […]

বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট-গুল খায় আমাদের ফ্ল্যাটের জ্বিন !

রাজধানী ঢাকাতে দীর্ঘদিন সিঙ্গেল ফ্ল্যাটে ছিলাম। ২০২১ সালে ডিসেম্বরে কলিজার […]