নির্মাণ উপকরণ পাথরের দরদাম

হিমালয় আহমেদ:  নির্মাণ উপকরণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে পাথর। সিমেন্টের কাঁচামাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কাজে পাথর ব্যবহৃত হয়। এ হিসেবে পাথরের বেশ গুরুত্ব রয়েছে। সিমেন্ট তৈরিতে ক্লিংকার, জিপসাম, স্ল্যাগ, চুনাপাথর ও ফ্লাই অ্যাশ এ পাঁচ ধরনের কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। এসব কাঁচামালের মধ্যে পাথরের ব্যবহার ১০ থেকে ১২ শতাংশ। নিচে পাথরের আদ্যপান্ত তুলে ধরা হলো-

বিভিন্ন ধরনের পাথরের বর্ণনা:

বিভিন্ন ধরনের পাথর রয়েছে দেশে। বোল্ডার পাথর, গ্রেভেল পাথর, সিঙ্গেল পাথর, চুনা পাথর, সারকিন এই ৫ ধরনের পাথর দেশে বেশি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে বোল্ডার পাথর, গ্রেভেল পাথর ও চুনাপাথর ভেঙ্গে বিভিন্ন সাইজের করে নির্মাণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর টিলা কেটে মাঝে মধ্যে পাওয়া যায় সারকিন পাথর। এসব পাথর সাধারণত স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও আমদানীকৃত দুইভাবেই পাওয়া যায়।

স্থানীয় পাথর ছাড়াও আরো অনেক ধরনের পাথর আমদানী করা হয়। এসব পাথরের মধ্যে রয়েছে গ্রানাইট পাথর, মার্বেল পাথর, হরিকেল পাথর, টাইলস পাথর, কেরালা পাথর, ক্রাশড স্টোন, ফেরো অ্যালয়, বিলেট। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী করা হয় এগুলো। ভারত সহ পাকিস্তান, তুরস্ক, চীন ও ইতালি থেকেও পাথর আমদানী করা হয়। তবে ভারত থেকে আমদানী করা হয় বেশি।

পাথর প্রক্রিয়াজাতকরণ:

সাধারণত দুই প্রক্রিয়ায় খনি থেকে পাথর উত্তোলন করা হয়। দুটি প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি হচ্ছে উন্মুক্ত পদ্ধতি। আরেকটি হচ্ছে ভূগর্ভস্থ খনি উত্তোলন পদ্ধতি। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে স্থানীয়দের ক্ষতিসাধন হতে পারে তাই এটির ব্যবহার অনেকটাই কম। ভূগর্ভ খনন পদ্ধতি উত্তম। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে খনির পাথর উত্তোলন করা হয়।

পাথরের বাজার/ পাথরের প্রাপ্তি স্থান:

পাথর কোয়ারিকে কেন্দ্র করে জীবন-জীবিকা পরিচালিত হয় লাখো মানুষের।
সিলেটেই দেশের অধিকাংশ পাথর বাংলাদেশে সরবরাহ করে। সিলেটের বিছনাকান্দি, হাদারপাড়, লামা হাদারপাড়, ভেড়িবিল, পীরের বাজারসহ কয়েকটি এলাকায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী পাথর মজুদ করার কাজে নিয়োজিত। এসব পাথরের মূল্য শতকোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশের পাথররাজ্য সিলেট। সিলেটের মাটি নয়, যেনো সোনার খনি। বাতাসে ওড়ে টাকা, হাট-ঘাট, জমি-বসতবাড়ি, কিছুই থাকে না ফাঁকা। কোম্পানিগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, গোয়াইনঘাটের জাফলং ও বিছানাকান্দির বেলায় এমন মিথই প্রচলিত। সিলেটের পাথরখনি কোম্পানিগঞ্জ এ তিন স্থান পেয়েছে প্রকৃতির উদার আনুকূল্য। এখানে ভূ-প্রকৃতি যেমন সুন্দর, তেমনই রয়েছে অফুরান প্রাকৃতিক সম্পদ। এসব এলাকার স্থানীয় অর্থনীতির চাকাকে রেখেছে সচল। অসংখ্য মানুষকে এনে দিয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ।

এই তিন এলাকার মাটি যেন সোনার চেয়েও খাঁটি। এ অঞ্চলের মাটিতে মিশে আছে পাথর আর পাথর। যেখানে মসজিদে দান হিসেবে নগদ টাকার বদলে দেওয়া হয় পাথর, ভিক্ষুককেও টাকার বদলে ভিক্ষা দেওয়া হয় পাথর ।

দেশের চাহিদার অধিকাংশ পাথর এসব এলাকা থেকেই সরবরাহ করা হয়। কোয়ারি এলাকার আশপাশের কোনো জমি খালি পড়ে থাকে না। পাথর সংরক্ষণ করতে এসব জায়গা ইজারা নেওয়ার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলে। ফলে রাস্তার আশপাশ, বাড়ির আঙ্গিনা, পতিত জমি, নদীর তীর-সবখানেই দেখা মেলে পাথরের স্তূপ।

বাড়ি কিংবা ক্ষেতের জমি, সবখানেই মাটির নীচে রয়েছে পাথরের খনি। সেসব এলাকার জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম পাথরের ব্যবসা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লোকজন পাথর ব্যবসায় জড়িয়ে এখানেই গড়ে তুলেছেন বসতি, আবাস।

এ তিন এলাকার পাথর কোয়ারিতে হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান। জনশ্র“তি রয়েছে: ‘পাথর কোয়ারি এলাকায় বাতাসে টাকা ওড়ে। পাথর কোনো ব্যবসা নয়, যেনো কাঁচা টাকা।’ যেখানে ক্রাশার মেশিনে ওড়া ধুলায়ও ওড়ে টাকা।

আর এ তিন কোয়ারি থেকে সরকারের তহবিলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারতের পাহাড়ের পাদদেশ থেকে প্রাকৃতিক নিয়মে পাথর আসে বাংলাদেশের সীমানায়। যে কারণে একদিকে পাথর উত্তোলন করা হয়, অন্যদিকে ভরপুর হয়ে যায় কোয়ারি। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের পন্থা হিসেবে পরিবেশ বিধ্বংসী বোমা-মেশিন এই তিন জনপদকে খাবলে খাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রায় ৭০ ভাগ পাথর সিলেট থেকে সরবরাহ করা হয়। ১৫ ভাগ পাথর পাওয়া যায় দিনাজপুর থেকে। ৫ ভাগ চট্রগ্রামে আর বাকি পাথরগুলো আসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়।

পাথর আমদানী বা রফতানি:

কোয়ারি থেকে উত্তোলিত পাথর ছাড়াও এলসি’র মাধ্যমে ভারত থেকে পাথর, চুনাপাথর, কয়লা আমদানি করা হয় বাংলাদেশে। এখান থেকেই সারা বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে আমদানি হয় বøাক লাইমস্টোন, বোল্ডার স্টোন ও লাইমস্টোন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে উত্তোলিত বোল্ডার, ফুট, বুথু সিঙ্গেল (নুড়ি) ফুট হিসেবে বিক্রি হয়। সেই সঙ্গে ওভারসাইজ বোল্ডার ভেঙে বিক্রি করা হয়। তবে এই সব পাথর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে পরিচিত।

পাথরের সম্ভাবনা:

সম্প্রতি জাফলংকে ভূতাত্তি¡ক ঐতিহ্য ঘোষণা করে প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ‘দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূ-তত্ত¡ বিভাগের শিক্ষার্থীগণ একাডেমিক গবেষণার অংশ হিসেবে ও ভূ-তত্ত¡ গবেষকগণের গবেষণা এবং ভূ-তাত্তি¡ক ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং ডাউকী নদীর পাড়ে বাংলাদেশের একমাত্র ইয়োসিন যুগের উন্মুক্ত লাইম স্টোন, কপিলি শেইল-এর স্তর সমূহ এবং বোল্ডার বেডসহ ২২.৫৯ একর এলাকাকে ভূতাত্তি¡ক ঐতিহ্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা হয়। ’

পাথরের ব্যবহার:

১. ইমারত নির্মাণ (সেতু, কালভার্ট ও দালান)
২. সিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
৩. রোড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
৪. কেমিক্যাল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
৫. ড্রেনেজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
৬. গøাস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
৭. সিরামিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
৮. বালু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
৯. লাইন (চুন) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়

গ্রানাইট:

গ্রানাইট পাথর সৌন্দর্য্যবর্ধন, দালানের কারুকাজ, দেওয়ালের কারুকাজে ব্যবহৃত হয়।

লাইম স্টোন:

সাধারণ চুন তৈরিতে লাইন স্টোন ব্যবহৃত হয়। দেওয়ালের চুনকামের কাজে এই পাথর ব্যবহৃত হয়।

মার্বেল পাথর:

মার্বেল পাথরের বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে। টেবিলের কাগজ বাতাসে উড়া থেকে নিত্য ব্যবহার্য স্থাপনায় মার্বেল পাথরের ব্যবহার রয়েছে। নিচে মার্বেল পাথর ব্যবহারের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো-
১. টাইলস তৈরিতে
২. ফ্লোর তৈরিতে
৩. সিরামিক তৈরিতে
৪. ওয়াশ রুমের ফ্লোরে
৫. ডাইনিং ফ্লোরে ও
৬. বাথটাবে


আকার বা সাইজ:

নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত পাথরগুলো বিভিন্ন আকারের বা সাইজের হয়ে থাকে। সাধারণ ৩/৪ ডাউন গ্রেড, ১/২ ইঞ্চি, ১.৫ ইঞ্চি, ৪/৩ ইঞ্চি ও পাই সাইজ এর ৫ ধরনের আকারের পাথর ব্যবহৃত হয়। নিচে বিভিন্ন আকারের পাথরের দাম তুলে ধরা হলো-

৩/৪ ডাউন গ্রেড পাথর:

বিল্ডিং নির্মাণ এর ক্ষেত্রে স্লাব ও কলাম ইত্যাদিতে এ আকারের পাথর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই সাইজের পাথর বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করে বিক্রি করা হয়। বর্গফুট ও বর্গ মিটার অনুযায়ী বিক্রি করা হয়। স্থানীয় বাজারে বর্গফুট আর আন্তর্জাতিক বাজারে বর্গ মিটারে বিক্রি হয় ৩/৪ ডাউন গ্রেড পাথর।

গ্রেড বা শ্রেণী দাম ( প্রতি বর্গফুট) `দাম (প্রতি বর্গমিটার)
প্রথম শ্রেণী ৯০-৯৫ টাকা   ৯৬০-৯৭০টাকা
দ্বিতীয় শ্রেণী ৮০-৮৫ টাকা ৮৫০-৮৬০ টাকা
তৃতীয় শ্রেণী ৬০-৬৫ ৬৪০-৬৫০ টাকা

 

১/২ ইঞ্চি পাথর:

রোডের কাজে ব্যবহৃত হয় এই সাইজের পাথর ব্যবহৃত হয়। আধা ইঞ্চি পাথরও তিন মানের রয়েছে। বিভিন্ন মানের পাথর বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। নিচে আধা ইঞ্চি পাথরের শ্রেণী, বর্গফুট ও বর্গমিটারের বর্ণনা দেওয়া হলো-

গ্রেড বা শ্রেণী দাম ( প্রতি বর্গফুট) `দাম (প্রতি বর্গমিটার)
প্রথম শ্রেণী ১৫০-২০০ টাকা ১৫০০-১৬০০ টাকা
দ্বিতীয় শ্রেণী ১৩০-১৫০ টাকা ১৪০০-১৫০০ টাকা
তৃতীয় শ্রেণী ১০০-১২০ টাকা ১৩০০-১৪০০ টাকা

১.৫ ইঞ্চি পাথর:

রোডের (হাইয়ের) সাব বেইজে দেড় ইঞ্চি পাথর ব্যবহৃত হয়। দেড় ইঞ্চি পাথরেরও তিন শ্রেণী রয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় এ তিন শ্রেণীর পাথর বাজারে বিক্রি হয়। নিচে শ্রেণী ও দাম দেওয়া হলো-

গ্রেড বা শ্রেণী দাম ( প্রতি বর্গফুট) `দাম (প্রতি বর্গমিটার)
প্রথম শ্রেণী ২০০-২২০ টাকা  ২০০০-২১০০টাকা
দ্বিতীয় শ্রেণী ১৮০-২০০ টাকা ১৯০০-২০০০টাকা
তৃতীয় শ্রেণী ১৬০-১৮০ টাকা ১৮০০-১৯০০টাকা

 

৪/৩ ইঞ্চি পাথর:

এই সাইজের পাথরও রাস্তা নির্মাণের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্গফুট ও বর্গ মিটার অনুযায়ী এই পাথর বিক্রি হয় বাজারে। এই পাথরেরও তিন শ্রেণী রয়েছে। নিচে ৪/৩ আকারের পাথরের দাম তুলে ধরা হলো-

গ্রেড বা শ্রেণী দাম ( প্রতি বর্গফুট) `দাম (প্রতি বর্গমিটার)
প্রথম শ্রেণী ১০০-১১০টাকা ৯০০-১০০০ টাকা
দ্বিতীয় শ্রেণী ৯০-১০০ টাকা ৯০০-৯৫০ টাকা
তৃতীয় শ্রেণী   ৮০-৯০ টাকা ৮৫০-৯০০ টাকা


পাই সাইজ পাথর:

সাধারণত রাস্তার এসফাল্টে পাই আকারের পাথর ব্যবহৃত হয়। পিছঢালা রাস্তার মূল কাজে পাই আকারের পাথর ব্যবহৃত হয়। এই পাথরে আকার ডানার মতো। পাই পাথরেরও তিনটি শ্রেণী রয়েছে। নিচে ছকে বর্গ ফুট ও বর্গ মিটার অনুযায়ী দাম দেওয়া হলো-

গ্রেড বা শ্রেণী দাম ( প্রতি বর্গফুট) `দাম (প্রতি বর্গমিটার)
প্রথম শ্রেণী ৮০-৮৫ টাকা ৮০০-৯০০ টাকা
দ্বিতীয় শ্রেণী ৭৫-৮০ টাকা ৭০০-৮০০ টাকা
তৃতীয় শ্রেণী ৬০-৭০ টাকা ৬০০-৭০০ টাকা

 

বিভিন্ন রংয়ের পাথর:

বিভিন্ন রংয়ের পাথর পাওয়া যায় বাজারে। এর মধ্যে রয়েছে কালো, সাদা, ধূসর, নীল ও বাদামী রং এর পাথর।

পাথর জাদুঘর:

পাথর জাদুঘর! শুনেই তো বেখাপ্পা মনে হয়! পাথরের আবার জাদুঘর হয় নাকি! তবে আসলেই তাই। এসব পাথরই মনে করিয়ে দেয়, কয়েক হাজার বছর আগেকার কথা! পুরনো-নতুন নানা পাথরের সমাহার নিয়ে হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়ে স্থাপন করা হয়েছে পাথর জাদুঘর। যা ‘রকস মিউজিয়াম’ হিসেবেই পরিচিত।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের একটি কক্ষে ১৯৯৭ সালের ১ মার্চ মিউজিয়ামটি স্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন অধ্যক্ষ ড. নাজমুল হক। তার গড়া ‘রকস মিউজিয়ামে’ রয়েছে হাজার বছরের পাথরও। এসবের গায়ে লেখা রয়েছে কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে তারও বর্ণনা।

রয়েছে আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা, নুড়ি পাথর, সিলিকা নুড়ি ও সিলিকা বালি, হলুদ ও গাঢ় হলুদ বালি, কাঁচ বালি, খনিজ বালি, লাইমস্টোন, পলি ও কুমোর মাটি এবং কঠিন শিলাসহ আরও অনেক পাথর। মিউজিয়ামে রয়েছে বিশাল আকৃতির বেলে পাথর, গ্রানাইট পাথর, কোয়ার্জাহিট, ব্যাসল্ট, শেল, মার্বেল, নকশা করা খিলান ও স্ল্যাব পাথর, বিভিন্ন রেখা, লেখা ও চিত্রাঙ্কিত শিলা এবং ধূসর পাথরও।

কোনোটি গোল, কোনোটি লম্বা! একেকটি আবার চেপ্টা কিংবা লম্বাটে। এসব পাথরের গায়ে আঁকা রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সাংকেতিক চিহ্নও। সংগ্রহে আছে আবহমান বাংলার চিরাচরিত বাহন বিশাল আকৃতির নৌকাও। ভূখণ্ডের বয়স নির্ণয়, ভূ-বৈশিষ্ট্য অনুসন্ধান, প্রাগৈতিহাসিক কালের নমুনা সংগ্রহ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং নৃ-তাত্তি¡ক নিদর্শন সংগ্রহের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক এ মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়েছে।

জাদুঘরটির সামনের গোল চত্বরে বেশ কয়েকটি পাথর বসানো আছে। এসব পাথরের বয়স কমপক্ষে ২০ বছর। যার বর্ণনা পাশের ছোট্ট ফলকে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ রয়েছে প্রত্যেকটি পাথরের নাম ও সংগ্রহ পদ্ধতিও। মিউজিয়ামের গ্যালারি সবার জন্যে উন্মুক্ত। কলেজ চলাকালে যেকোনো দর্শনার্থী এসব পাথর দেখতে পারেন।

পাশেই একটি সংগ্রহশালাও রয়েছে। এতে মহানন্দা, ডাহুক বিধৌত উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র এবং নদীর নিচে ও ভূগর্ভে পাওয়া কাঠ, ৩০০ থেকে ২ হাজার বছরের পুরনো ইট-পাথরের মূর্তি ও পোড়ামাটির নকশা রয়েছে। যা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।

হিমালয়ের কোল ঘেঁষা এ জেলার ভূগর্ভের অল্প গভীরে প্রচুর নুড়ি পাথর রয়েছে। গভীরে রয়েছে প্রাচীন যুগের শিলাস্তরও। এ শিলাস্তরের কালানুক্রমিক নমুনা নিয়েই এখানে মিউজিয়ামটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে ২৫ ফুটের বেশি আয়তনের একটি নৌকা আছে। যার বয়স প্রায় এক হাজার বছর। আর কয়েকটি পাথর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়। যেগুলোতে স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন সময় পূজা-অর্চনা করতেন। কয়েকটি পাথর সম্পর্কে কুসংস্কারও প্রচলিত রয়েছে। কোনো কোনো পাথরে অনেক বছর আগের কারুকাজ রয়েছে।

Leave a Reply