অফবিট

টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে সর্বকালের রহস্যময় পাঁচ নিখোঁজ

রাহিমা নিশি:

পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে প্রায়ই কিছু রহস্যময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। যে ঘটনাগুলো মানুষকে বেদনাবিদূর করে দেয়। হঠাৎ করে প্রিয়জনকে হারানোর পর পরিবার ও কাছের মানুষরা পড়ে যায় অনিশ্চিয়তার মধ্যে। দীর্ঘ সময়ের পরও প্রিয়জনদের হদিস না পেয়ে সারা জীবন ধুকতে থাকেন স্বজনরা।

আজ আমরা জানবো বিশ্ব বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে সর্বকালের সবচেয়ে রহস্যময় অমীমাংসিত পাঁচটি নিখোঁজের ঘটনা সম্পর্কে। বিশ্বের পরাশক্তিধর রাষ্ট্র ও সরকারের সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও সেই সব নিখোঁজ রহস্যের কোনও সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

১.মালয়েশিয়ান এয়ার লাইন এর ফ্লাইট ৩৭০:

পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে রহস্যময় নিখোঁজের ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মালয়েশিয়ার বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। আজ থেকে ৭ বছর আগে মালয়েশিয়ান এয়ার লাইন এর ফ্লাইট ৩৭০ নিখোঁজের খবর বিশ্ববাসীর মনে শিহরণ তৈরি করেছিল।

ট্র্যাজিক রহস্যটি ২০১৪ সালের ৮ মার্চ ঘটেছিল। দুই শতাধিক যাত্রীসহ মধ্য-বাতাসে উধাও হয়ে যায় বিমানটি। আকাশ ও পানিতে প্রায় তিন বছর ধরে ২০ দেশের পক্ষ থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে অনুসন্ধানের পরেও বিমানটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিমানটি ও এর ২৩৯ জন যাত্রীর আজ পর্যন্ত কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। বাণিজ্যিক বিমানটির হঠাৎ করে কীভাবে সবগুলো রাডার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল এই রহস্যের আজও কোনও সমাধান হয়নি। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিং যাওয়ার পথে যাত্রীবাহী ওই বিমানটি নিখোঁজ হয়েছিল।

২. ডি বি কুপার:

আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে একজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি আমেরিকার সিয়াটল গামি এক বিমান হাইজ্যাক করে এবং সে কর্তৃপক্ষের থেকে ২ লাখ ডলার দাবি করে। ঘটনাটি ঘটে ছিল ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর। কুপারের দাবি মতো তাকে ২ লাখ ডলার দেয়া হয়। অর্থ পাওয়ার পর কুপার হঠাৎ করে বিমান থেকে উধাও হয়ে যায়।

আমেরিকার শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ডি বি কুপারকে দীর্ঘ সময় তদন্ত করে কোন খোঁজ দিতে পারেনি। নিখোঁজের প্রায় অর্ধশত বছর হয়ে গেলেও ওই রহস্যময় অপরাধীকে এখনও চিহ্নিত বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

৩.ম্যারি সেলেস্তে:

১৮৭২ সালের ৭ নভেম্বর ম্যারি সেলেস্তে নামক একটি বাণিজ্যিক বিমান আমেরিকার নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে কানাডার জেনয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর একটি কানাডিয়ান উড়োজাহাজ ম্যারি সেলেস্তেকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভেসে থাকতে দেখে। তবে বিমানটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। সেই বিমানের একজন ক্রু মেম্বারকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আকাশপথে বিমানের কোন সমস্যায় পড়লে ক্রু মেম্বারদের উদ্বার করা হয়। তবে ওই বিমানে থাকা ক্রু মেম্বারদের উদ্ধার করা যায়নি। তাদের কি হয়েছিল তাদের আর দেখা যায়নি কেন সেই ঘটনার আজও একটি রহস্যই রয়ে গেছে।

৪. অ্যামেলিয়া ম্যারি ইয়ারহার্ট:

অ্যামেলিয়া ম্যারি ইয়ারহার্ট তার সময়ের একজন অন্যতম উজ্জ্বল বিমানচালক ছিলেন। ১৯৩২ সালে, তিনি আটলান্টিক মহাসাগরজুড়ে একক উড়ন্ত প্রথম নারী পাইলট হয়েছিলেন। তিনি একজন সাহসী ও দক্ষ পাইলট ছিলেন। ১৯৩৭ সালে সমগ্র বিশ্ব বিমানে পাড়ি দেয়ার সিদ্বান্ত নেন। কো পাইলট ন্যাভিগেটর ফ্রেড নুনানকে নিয়ে একই বছরের ১৯ জুন আমেরিকার ফ্লোরিডার মিয়ামি থেকে শুরু করলেন বিমান যাত্রা।

প্রথম মাসে তাদের যাত্রা ছিল সফল। সাউথ আমেরিকা , আফ্রিকা , ভারতবর্ষ হয়ে ২৯ জুন তারা তাদের শেষ পরিচিত স্টপ পাপুয়া নিউ গিনির মোরোব প্রদেশে লায়ে পৌঁছেছিলেন। ইয়ারহার্ট ও নুনন ওই বছরের ২ জুলাই মধ্যরাতে লা এয়ারফিল্ড থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন, লা সময় বিকেল তিনটার দিকে, এয়ারহার্ট তার বিমানের উচ্চতা ১০ হাজার ফুট উপরে বলে নিশ্চিত করেছিলেন।

তবে ঘন মেঘের কারণে তারা তাদের বিমানের উচ্চতা কমাচ্ছেন বলেও জানিয়েছিলেন। তাদের বিমানের শেষ অবস্থান পাওয়া যায় লা এয়ারফিল্ড থেকে প্রায় ৮০০ মাইল দূরে নুকুমানু নামের একটি দ্বীপপুঞ্জে। এই পয়েন্টের পরে, অ্যামেলিয়া ও তার সঙ্গী কো-পাইলট নুনান অদৃশ্য হয়ে যান। এরপর থেকে কো-পাইলট নুনানসহ পৃথিবী দাবড়ে বেড়ানো পাইলট অ্যামেলিয়া এবং ওই বিমানের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

৫.অ্যামি লিন ব্র্যাডলি:

১৯৯৮ সালের ২৪ মার্চ অ্যামি লিন ব্র্যাডলি নামে বারবাডোজের এক যুবতী তার পরিবারের সাথে রয়াল ক্যারিবিয়ান ক্রুজ জাহাজে ভ্রমণ করছিলেন। ভোর ৫ টার দিকে অ্যামি লিনের বাবা তাকে জাহাজের বারান্দায় লম্বাভাবে ঘুমাতে দেখেন। তবে ৩০ মিনিট পর তিনি তার মেয়েকে আর দেখতে পাননি।

অ্যামি একজন দক্ষ সাঁতারু ও প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড ছিলেন। এছাড়া জাহাজটি তীরের খুব বেশি দূরেও ছিল না। অনেক অনুসন্ধান করার পরেও তাকে জীবিত বা মৃত পাওয়া যায়নি। ওই নারীর অন্তর্ধান আজও একটি রহস্য হয়েই রয়ে গেছে। সে সম্পর্কে সঠিক উত্তর আজ অবধি পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

আরও পড়ুন