অফবিট

জেনে নিন মরণোত্তর অঙ্গ ও দেহ দান করার নিয়ম

আহমেদ পলক:

অনেকেই আজকাল মরণোত্তর নিজের অঙ্গ গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দান করতে দেখা যায়। তবে ইচ্ছে করলেই যে কেউ অঙ্গ দান করতে পারে না। এই ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম-নীতি মানতে হয়। সেই বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে নিচে।

মরণোত্তর মানব শরীরের পুরোটাই দান করা যায়। এর বাইরে আলাদা করে বিভিন্ন অংশও দান করা যায়।

হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি, লিভার, প্যাংক্রিয়াস, অস্থিমজ্জা থেকে শুরু করে চোখের কর্নিয়া, হাড়, ত্বক, হার্ট ভালভ, ব্লাড ভেসেল, নার্ভ এবং টেন্ডনও দান করা যায়।

যেসকল রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যায়, তারা দান করা এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে পুনরায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।

অন্যদিকে, দান করা মানবদেহের এসব অঙ্গগুলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষা এবং গবেষণাতেও কাজে লাগানো যায়। এতে করে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার প্রসার হয়। আর সুবিধা পায় জীবিত মানুষ।

কোন অংশ কতক্ষণের মধ্যে ব্যবহার করতে হয় :

মৃত্যুর পর চোখ প্রতিস্থাপন করতে হয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। হার্ট প্রতিস্থাপন করতে হয় চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে।

এছাড়া ফুসফুস ৪-৮ ঘণ্টা, লিভার ১২-১৫ ঘণ্টা, প্যাংক্রিয়াস ১২-১৪ ঘণ্টা এবং কিডনি ২৪-৪৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিস্থাপন করতে হয়।

মরণোত্তর অঙ্গ দানের প্রক্রিয়া:

জীবিত কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি (১৮ বছরের বেশি) হতে হবে, তবে ৬৫ বছরের বেশি নয়। যদি কেউ অঙ্গদান করতে চায় এই নিয়ম মানতেই হবে।

যিনি মরণোত্তর দেহ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে চান, তিনি স্ট্যাম্প পেপারে সজ্ঞানে স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালে অনুমতি নিতে হবে।

এ প্রক্রিয়ায় স্ট্যাম্প কাগজে হলফনামা, দুই কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি দিয়ে আবেদন করতে হবে। সেখানে অন্তত দুইজন নিকটাত্মীয়কে সাক্ষী হিসাবে থাকতে হবে।

মারা যাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ ওই মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালে পৌঁছে দিতে হবে। সে সময় ডেথ সার্টিফিকেটের কপিও লাগবে।

বলে রাখা ভালো, জীবিত অবস্থায় কেউ শুধুমাত্র নিকট আত্মীয়কে কিডনি, লিভারের মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন। কিন্তু চোখ, চর্ম, টিস্যু-ইত্যাদি যে কেউকে দান করা যাবে, সেখানে নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

তবে ক্যান্সার, হেপাটাইটিস, এইডস বা জীবাণু সংক্রমণ কোন ব্যাধিতে মারা গেলে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করা যাবে না। কারণ এগুলো প্রতিস্থাপনের অনুপোযোগী।

উপরের নিয়মগুলো মেনে ১৮ বছরের উপরে এবং ৬৫ বছরের নিচের যে কোন ব্যক্তি ইচ্ছে করলেই মৃত্যুর পর অথবা মরণোত্তর অঙ্গ ও দেহ গবেষণা ও চিকিৎসা কাজে ব্যবহারের জন্য দান করে যেতে পারবেন।

Leave a Reply

আরও পড়ুন

বাংলাদেশি ড. সনজীদা খাতুনের হাতে ভারতীয় পদ্মশ্রী পুরস্কার

প্রিয়ালী সান্যাল: বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. সনজীদা খাতুনের হাতে ভারতের […]