স্বাস্থ্য

গ্যাস্ট্রিক চিরতরে বিদায় (ভিডিও)

রুকাইয়া মিম: গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা কম বেশি প্রায় সবারই হয়। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না খাওয়া, খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়মসহ নানান কারণেই এই সমস্যা হয়।

ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে, পানি কম খেলে বা খাবারে ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবারের পরিমাণ কম থাকলেও পেটে গ্যাস তৈরি হতে পারে।

শুরুতেই এই বিষয়ে সচেতন না হলে পরে আলসার হওয়া আশঙ্কা থাকে। এমনকিছু খাবার আছে যেগুলো খুব সহজেই পেটের গ্যাস দূর করতে সহায়তা করে থাকে।

জার্নাল মনিটরের পাঠকদের জন্য এই লেখায় গ্যাস চিরতরে বিদায়ের কৌশল ও কখন কিভাবে কি ধরনের খাবার খেতে হবে সে বিষয়ে পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ২০ টি টিপস তুলে ধরা হলো-

সকালে ঘুম থেকে উঠে কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। পানি পান করতে হবে ধীরে ধীরে। অন্তত দুই মিনিট সময় ধরে সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে দিনের প্রথম পানি পান করবেন না।

সকালে পানি পানের কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর সকালের নাস্তা করতে হবে। কারণ সারারাত পাকস্থলিতে যে হাইড্রোক্লোরিক এসিড জমা হয় তা পানি পানের আধা ঘণ্টা পর তা কমতে থাকে।

সকালে নাস্তা করার সাথে সাথেই পানি পান করবেন না। নাস্তার কমপক্ষে ১ ঘন্টা পর পানি পান করবেন। তাতে মেটাবোলিজম বুস্টআপ হবে। পাকস্থলিতে গ্যাসের কারণে যে বুটবুট পুটপুট হয় তা হবে না।

ডুবো তেলের খাবার ও বেশি মসলাযুক্ত খাবার খাবেন না। তেলে প্রচুুর পরিমাণ কোলেস্টোরেল থাকে যা পাকস্থলির জন্য খুবই বিপদজ্জনক। বেশি তেল ও মসলাযুক্ত খাবার হজমে সময় লাগে।

যাদের পেটে গ্যাসের সমস্যা তাদের আবহাওয়ার ধরণ অনুযায়ী খাবার খেতে হবে। ঠাণ্ডার দিনে শরীর গরম হয় এমন খাবার খেতে হবে। অন্যদিকে গরমের দিনে শরীর ও পাকস্থলি শীতল থাকে এমন খাদ্য খেতে হবে।

গ্যাসের সমস্যার অন্যতম কারণ হলো তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়া। তাড়াহুড়ো করে খাবার খেলে ডাইজেস্ট বা হজমে সমস্যা হয়। তাছাড়া খাবারের সঙ্গে যে পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ হওয়ার দরকার তা হতে পারে না। তাই তাড়াহুড়ো খাবার খাবেন না।

এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার আরেক অন্যতম কারণ হলো খাবার চিবিয়ে না খাওয়া। দুই পাশের দাঁত দিয়ে অন্তত দশবার চিবিয়ে খেতে হবে। আরো বেশি চিবিয়ে খেলে আরো বেশি ভালো। চিবিয়ে খেলে খাদ্য কণাগুলো পাকস্থলিকে আরাম দেয়।

যে খাবারে আপনার এসিডিটি হয় সে খাবারগুলো বাদ দিতে হবে। জিহ্ববার লোভে অনেকেই কোনো বাজ বিচার না করেই চোখের সামনে যা পায় তাই খায়। পেটের গ্যাস বিতারণে যাচ্ছেতাই খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

খাবার গ্রহণের সাথে সাথে ফল খাওয়া যাবে না। প্রধান খাবারে সাধারণত ভাত, ডাল, তরকারি, মাছ ও মাংস খাওয়া হয়। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইট্রেট, ক্যালশিয়াম, শর্করা থাকে। খাবারের সাথে সাথে আরো পুষ্টি শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলি তা নিতে পারে না।

খাবার গ্রহণের ১ থেকে দেড় ঘন্টা পর ফল খাওয়া ভালো। কেন না খাবার গ্রহণের পর শরীর সেখান থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিতে এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় লাগে। এরপর ফল খেলে গ্যাস হয় না। পাকস্থলি আরাম পায়। তাতে শরীর ও মন ভালো লাগবে।

খাবারে তেল কম খেতে হবে। অধিক তেল শরীরে গ্যাস বাড়িয়ে দেয়। সয়াবিন তেল না খেয়ে সরিষা, আমন্ড, সূর্যমুখী ও রাইস ব্রান তেল খাওয়া ভালো। এগুলোতে কোলেস্টোরেল তুলনামূলক কম থাকে।

একজন মানুষের প্রতিদিন ৩ থেকে ৬ চামচ এর বেশি তেলের প্রয়োজন। এর বেশি তেল খেলে গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা হবে। খাবারের আগে পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা হিসেব করে তেল দিতে হবে।

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি তৈরির অন্যতম উপাদান হলো চিনি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চিনিকে হোয়াট পয়জন (সাদা বিষ) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। চিনির তৈরি যে কোন খাবার খাবেন না গ্যাস্ট্রিকে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। এছাড়া চিনির তৈরি খাবার খেলে ডায়াবেটিসেরও ঝুকি বাড়ে বলে মনে করেন চিকিৎসা গবেষকরা।

পোলাও, মাংস বা বিরিয়ানির মতো রিচ ফুড কম খেতে হবে। যারা এসব রিচ ফুডে অভ্যস্ত তারা এই খাবারের প্রতি বিমুখ হতে হবে। খুব বেশি হলে মাসে চারবার রিচ ফুড খেতে পারবেন। এই নিয়মের বাইরে গেলে গ্যাস কমবে না।

খাবার গ্রহণের সাথে সাথেই বসে বা শুয়ে পড়ার অনেকের অভ্যাস রয়েছে। এই অভ্যাস পাকস্থলির গ্যাস বাড়িয়ে দেয়। যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তারা খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই বসবেন না বা শুয়েন না।

সকালে দুপুরে বা রাতে অথবা যে কোন খাবারের পরই অন্তত ২০ থেকে ২৫ কদম হাঁটতে হবে। হাটাঁহাঁটি করলে শরীরের অপ্রয়োজনীয় গ্যাস নিঃসরণ হয়ে যায়। খাবার গ্রহণের পরে হাঁটার অভ্যাস তৈরি করুন তাতে ভালো ফল পাবেন।

ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘন্টা আগে রাতের খাবার খেতে হবে। ইউরোপ আমেরিকার লোকেরা সন্ধ্যা ৭ থেকে ৮ টার মধ্যে তাদের রাতের খাবার সেরে ফেলে। ঘুমানোর ৩ ঘন্টা আগে খেলে পাকস্থলির পাঁচন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় তাতে গ্যাস জমে না।

প্রসেসড ফ্রুট বা প্রক্রিয়াজাত করা ফল না খেয়ে তাজা ফল খেতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবারে অনেক সময় নানান ধরনের কেমিক্যাল মিশানো হয়। যা শরীরের জন্য হানিকর।

প্রতিদিন সকালে দুপুরে ও রাতে তিনবেলা একই সময়ে খাবার গ্রহণের অভ্যাস করুন। তাতে পাকস্থলির হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকবে ফলে আরাম পাবেন।

খাবারের পর দই খাওয়া বেশ কার্যকর। পেট ঠাণ্ডা রাখতে বেশ কার্যকরী একটি খাবার। দই খেলে হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। কারণ এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দৈনন্দিন জীবনযাপনে ও নিজের খাওয়া-দাওয়ার প্রতি একটু নজর রাখতে হবে। উপরের নিয়মগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

নিচের লিংকে ভিডিও-

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন