খতিয়ান দলিল ও নকশা
অফবিট

কোথায় কীভাবে জমির খতিয়ান দলিল ও নকশা পাওয়া যায়

রাহিমা জাহান নিশি:

খতিয়ান দলিল ও ম্যাপ বা নকশা এই তিনটি উপাদান জমির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য। কেননা এইগুলো ছাড়া আপনি জমি বিক্রয়, হস্তান্তর অথবা ব্যাংক লোন পেতে নানান সমস্যা হয়।

সেকারণে, জমির খতিয়ান, দলিলসহ সকল কাগজপত্র সংগ্রহে রাখার জন্য সরকারি নানান দপ্তর রয়েছে, যারা ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখে।

এখন আপনার কাজ হল, ওই সকল দপ্তরগুলোকে নিশ্চিত করে তাদের শরণাপন্ন হওয়া ও কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করে নিজের কাছে রাখা।

জমির খতিয়ান, দলিল ও নকশা কোথায়, কীভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা যায় নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

প্রথমত,আপনার জমির খতিয়ান বা পর্চা কোথায় পাবেন?
জমির পর্চা বা খতিয়ান মূলত চারটি অফিসে পাবেন। তা হলো-
১. ইউনিয়ন ভূমি অফিস।
২. উপজেলা ভূমি অফিস।
৩. জেলা ডিসি অফিস।
৪. সেটেলমেন্ট অফিস।

ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা তহশিল অফিস:

ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যদিও খতিয়ান বা পর্চার বালাম বহি থাকে কিন্তু আপনি এই অফিসে হতে খতিয়ানের কপি নিতে পারবেন না। ইউনিয়ন ভূমি অফিস হতে শুধু খসড়া খতিয়ান নিতে পারবেন যেটা আইনত কোন মূল্য নেই। তারপরেও এই অফিসটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনার জমির খতিয়ান নাম্বার জানা না থাকলে এই অফিস থেকে জেনে নিতে পারবেন এছাড়া জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর এই অফিসে দিতে হয়।

উপজেলা ভূমি অফিস:

যদিও উপজেলা ভূমি অফিসের মূল কাজ ”নামজারী” বা ”খারিজ” বা ”মিউটেশন” করা তবে খসড়া খতিয়ান তুলতে পারবেন। এই অফিস হতেও খতিয়ানের সার্টিফাইড পর্চা বা কোর্ট পর্চা তুলতে পারবেন না।

জেলা বা ডিসি অফিস:

এই অফিস হতে পর্চা বা খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই অফিসের খতিয়ান এর গুরুত্ব সর্বাধিক। সব জায়গায় এই অফিসের খতিয়ান এর গুরুত্ব রয়েছে।

সেটেলমেন্ট অফিস:

শুধুমাত্র নতুন রেকর্ড বা জরিপের পর্চা / খতিয়ান এই অফিস হতে সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি নতুন রেকর্ড এর ম্যাপ ও সংগ্রহ করা যায়।

দ্বিতীয়ত, খতিয়ান তুলতে কত টাকা লাগবে?
সিএস, এসএ, আরএস, এর জন্য কত টাকা দিতে হবে তা নির্ভর করে ওই স্থানের সিন্ডিকেটের উপর। তবে সিটি জরিপের জন্য সরকারি ফি ১০০ টাকা খরচ হবে।

তৃতীয়ত, আপনার জমির দলিল বা বায়া দলিল কোথায় পাবেন?
দলিল বা দলিল এর সার্টিফাইড কপি বা নকল মূলত দুটি অফিস হতে সংগ্রহ করা যায়, তা হলো-
১. উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।
২. জেলা রেজিস্ট্রি বা সদর রেকর্ড রুম অফিস।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস:

যেখানে নতুন দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয় এই অফিস হতে নতুন দলিলের নকল ও মূল দলিল পাওয়া যায়। কিন্তু পুরাতন দলিল বা বায়া দলিল এই অফিসে পাওয়া যায় না।

জেলা রেজিস্ট্রি অফিস বা সদর রেকর্ড রুম:

এই অফিসে নতুন বা পুরাতন দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকলসহ সব ধরনের ডকুমেন্টই পাওয়া যায়। যা দিয়ে ব্যাংক ঋণ থেকে শুরু করে সবকিছুই পাওয়া যায়।

চতুর্থত, দলিল তুলতে কত টাকা খরচ হয়?
সরকারি খরচ যদিও সামান্য কিন্তু নকলের খরচ নির্ভর করে ওই স্থানের সিন্ডিকেটের ওপর।

পঞ্চমত ,আপনার জমির মৌজা ম্যাপ বা নকশা কোথায় পাবেন?
সাধারণত ম্যাপ বা নকশা দুইটি অফিসে পাবেন, তা হলো
এক, জেলা ডিসি অফিস।
দুই, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ( DLR) অফিস, ঢাকা।

জেলা বা ডিসি অফিস:

এই অফিস হতে সিএস, এসএ, আরএস, বিএস যেকোনো মৌজা ম্যাপ বা নকশা সংগ্রহ করা যাবে।

এই সব ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে  লাগবে ১০ টাকার আবেদন ফরম, ২০ টাকার কোর্ট ফি ও ৫০০ টাকা নগদ জমা বাবদ বা ডি.সি.আর বাবদ। অর্থাৎ ৫৩০ টাকায় মৌজা ম্যাপ বা নকশা তুলতে পারবেন।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, সাতরাস্তার মোড়, তেজগাঁও ঢাকা:

সারা বাংলাদেশের যে কোনো মৌজা ম্যাপ সিএস, এসএ, আরএস, বিএস, জেলা ম্যাপ, বাংলাদেশ ম্যাপ উক্ত অফিস হতে তুলতে পারবেন।

এই অফিসের ম্যাপের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি। সারা দেশের যে কোন ম্যাপ এই অফিসে পাওয়া যায়। ম্যাপ তুলতে  আবেদন ফরম ফি কোর্ট ফি ও ডি.সি.আর বাবদ  মোট ৫৫০ টাকা খরচ লাগবে মাত্র।

ষষ্ঠত, ম্যাপ বা নকশা তুলতে কতদিন সময় লাগে?
সাধারণত আবেদন করার দিন হতে, ৫-৮ কার্য দিবসের ভেতরে ম্যাপ সরবরাহ করা হয়। তবে এটা নির্ভর করে কার্যদিবসের উপর।

এখন থেকে আর কোন চিন্তা নেই। এই নিবন্ধ পড়ার পরে যে কেউই এখন নিজের বা পরিবারের কিংবা আত্মীয়-স্বজনের জমির খতিয়ান দলিল ও নকশা সহজেই পেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন