অফবিট

কুমির পিটিয়ে মারল গ্রামবাসী

নদীর পাড়ে মহিষের পাল চড়াচ্ছিল এক তরুণ। হঠাৎ একটি মহিষ নদীতে চলে যায়। তরুণ মহিষটিকে বাঁচাতে নদীতে লাফ দিয়ে নেমে পড়ে।

এরপরেই তরুণের চিৎকার! পরে আর ওই তরুণটিকে দেখা যায়নি।

উত্তেজিত গ্রামবাসী জাল নিয়ে নদীতে নেমে সেখান থেকে একটি কুমিরকে ধরে ফেলে।

তারপর নদীর পাড়ে কুমিরকে এনে তারা আচ্ছা মতো পিটাতে শুরু করে।

ওই কুমিরটি তরুণকে খেয়ে ফেলেছে এমন অনুমান থেকে তারা কুমিরটিকে উত্তম মধ্যম দিতে থাকে।

কুমিরের পেট কেটে তরুণকে বের করার পরিকল্পনাও করে তারা।

ভারতের উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন এলাকায় কুমিরটিকে বেধড়ক পেটানোর এমন বিরল ঘটনাটি ঘটে।

শুধু তা-ই নয়, করা হয় এক্সরেও। গত ৩ জুলাই-২০২২ (রোববার) সন্ধ্যায় মারা যায় কুমিরটি।

কুমায়ুনের বনকর্মকর্তারা বলছেন, তারা কুমিরটিকে গ্রামবাসীদের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন।

বন বিভাগের পশু চিকিৎসক কুমিরটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন।

গ্রামবাসীর দাবির মুখে, ওই কুমিরকে এক্সরে করে দেখা হয় এর পেটের ভেতরে ওই তরুণের হাড়গোড় কিছু আছে কি না।

ভারতে কুমির পিটিয়ে মারে গ্রামবাসী

তবে এক্সরে করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আহত কুমিরটি মারা যায়। কুমিরটি প্রায় ১০ ফুট লম্বা ছিল।

ভারতের বন দপ্তর জানিয়েছে, এক্সরেতে কুমিরের পেটে কোনো ধরনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি।

মানুষ খেয়ে ফেলার গুজবে কুমিরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী।

জানা গেছে, নিখোঁজ ওই তরুণের খোঁজ চলছে। যারা কুমির মেরেছিল তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে।

এর আগে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়া রাগের বশে হাতুড়ি, ছুরি আর মুগুর দিয়ে প্রায় ৩০০ কুমির পিটিয়ে মারে গ্রামবাসী।

দেশটির পশ্চিম পাপুয়ায় ওই ঘটনাটি ঘটে ছিল।

স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘাসের খোঁজে বেরিয়ে কুমিরের খপ্পরে পড়েছিলেন।

তার চিৎকার শুনেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয়রা। হাজার চেষ্টার পরেও শেষমেশ বাঁচানো যায়নি ৪৮ বছরের ওই ব্যক্তিকে।

ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষিপ্ত জনতা হাতুড়ি, ছুরি আর মুগুর দিয়ে প্রায় ২৯২ টি কুমিরকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করে ফেলেন।

ওই ব্যক্তি ঘাস সংগ্রহ করতে গিয়েই কুমিরের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন বলে ধারণা করেন বন কর্মকর্তারা।

স্থানীয়রা ওই ব্যক্তির মৃতদেহ শনাক্ত করার পরই ফার্মে ঢুকে কুমিরগুলোকে মেরে ফেলে ক্ষিপ্ত জনতা। এর চার বছর পর একটি কুমির মেরে ফেলার ঘটনা ঘটলো ভারতে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও জাকার্তা টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন