স্বাস্থ্য

কি কারণে জাপানিদের আয়ু সবচেয়ে বেশি (ভিডিও)

আজমুন ফাবিহা:

অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জাপানে মানুষজনের গড় আয়ু বর্তমানে ৮৪ বছর, যেখানে বিশ্বের বাকি জনসংখ্যার গড় আয়ু ৭২.৬ বছর।

জাপানে বর্তমানে ২৯ শতাংশ সিনিয়র সিটিজেন রয়েছে। যার মধ্যে সবাই ৬৫-বছরের বেশি বয়সী এবং স্বাস্থ্যের দিক থেকে তারা অনেক এগিয়ে রয়েছে। সুস্থ রয়েছে বিশ্বের সমবয়সী অন্যান্য নাগরিকদের তুলনায়। জাপানে বয়স্কদের ছোটরা খুব সম্মান করে বলে মনের দিক দিয়ে তারা আনন্দে থাকে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর গ্লোবাল হেল্থ অ্যান্ড মেডিসিন-এর সমীক্ষা বলছে, জাপানের মানুষজনের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার পেছনে ডায়েট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সমীক্ষাটি প্রায় ৮০ হাজার মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ধরনের উপরে তথ্য সংগ্রহ করে করা হয়েছে।

জাপানিদের কাছে ভালো থাকার মূলমন্ত্রই হচ্ছে ব্যস্ত থাকা। তারা অবসর থাকতে পছন্দ করে না। এই প্রবন্ধে জাপানিদের ভালো ও সুস্থ থাকার রহস্য নিয়ে আলোচনা করা হলো।

সক্রিয় থাকা:

জাপানিরা রিটায়ার্ড বলতে কিছু বিশ্বাস করে না। অফিশিয়ালি তারা রিটায়ার্ড নিলেও বাসায় শুয়ে বসে সময় কাটায় না। চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পরেও তারা নিজের বা পরিবারের অথবা সমাজে মূল্য যোগ করে থাকে। অফিশিয়ালি অবসর নিলেও কাজ করার কারণে বেশি বছর বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় তাদের মনে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকরা অবসরে চলে যায় বলে জীবনের প্রতি আগ্রহট হারিয়ে ফেলে। তবে এ ক্ষেত্রে জাপানিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তারা সব সময় সক্রিয় বা একটিভ থাকে।

ধীরে চলা:

জীবন ও জীবিকার তাগিদে বর্তমান যুগে বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ সারাক্ষণই ছুটাছুটির মধ্যে থাকে। দ্রুত ছুটাছুটি করার ক্ষেত্রে ব্যকিক্রম জাপানিরা। অনেক ব্যস্ত থাকা সত্বেও জীবনকে ধীর গতিতে পরিচালনা করেন জাপানিরা। জীবনযাপনের ক্ষেত্রে তারা তাড়াহুড়া করে না।

পেট ভরে না খাওয়া:

জাপানিরা কখনো পেট পরিপূর্ণ করে খায় না। জাপানিরা পেটের ৮০ ভাগ খেয়ে ভরে আ ২০ ভাগ খালি রাখে। বিশেষ করে তারা মাংসের চেয়ে তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল বেশি খায়। এর ফলে তারা ভালো ও সুস্থ থাকে।

ভালো বন্ধুদের সঙ্গ:

জাপানিরা নিজেদেরকে ভালো বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে ঘিরে রাখে। সারা দিন কেমন গেল তারা তা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে। এছাড়া যে কোন বিপদে আপদে বন্ধুদের উপদেশ নিয়ে থাকে। এর ফলে মানসিকভাবে তারা অনেক সুস্থ থাকেন, যা দীর্ঘায়ূ লাভের সহায়ক।

শরীর সতেজ রাখা:

শরীরে মরিচা বা জং ধরা জাপানিরা বিশ্বাস করে না। এই বিষয়টির দিকে তারা গভীর খেয়াল রাখে। তারা নিয়মিত ব্যায়াম করে। তারা নিয়মিত জেন্টেল কাজ করে অর্থাৎ হালকা ব্যায়াম বা ঘরের কাজ করে। এই জাতীয় কাজ করে তারা নিজেদের সতেজ রাখে। সুস্থ থাকে দেহ ও মন। তাতে বয়স বাড়লেও তারা বুড়ো হয়ে যায় না।

হাসি খুশি থাকা:

জাপানিরা হাসি খুশিতে জীবন উৎফুল্ল রাখে। তারা নিজেরা অনেক হাসি খুশি থাকে এবং অন্যদেরও অনেক হাসি খুশি ও আনন্দে রাখতে চেষ্টা করে। অপরকে আনন্দে রাখলে নিজেদের মন ভালো তারা এমন বিশ্বাস পোষণ করে।

প্রকৃতির সান্নিধ্য:

জাপানিরা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। তারা বাড়ির পাশে একটি ছোট জায়গা রাখে বা বাগানের ব্যবস্থা রাখে। সেখানে তারা কাজ করেন। দেয়াল কুঠারের মাঝখানে থাকলেও তারা সপ্তাহান্তে গ্রামে যেতে ও পার্কে যেতে পছন্দ করে থাকে। এর কারণে তারা সুস্থ ও ভালো থাকে।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন:

একে অন্যকে ধন্যবাদ দেয়া জাপানিদের বড় বৈশিষ্ট্য। ছোট ছোট কাজের জন্য পরস্পরকে ধন্যবাদ দেয়ার রীতি বেশ প্রচলিত জাপানে। বন্ধু-বান্ধব, পরিবার ও আশপাশের ছোট বড় সবাইকে তারা ধন্যবাদ দিয়ে থাকে। অন্যকে ধন্যবাদ দিলে মানসিক তৃপ্তি লাভ করা যায় বলে মনে করে তারা।

বর্তমানকে গুরুত্ব দেয়া:  

জাপানিরা মনে করে আজকের দিনটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ বর্তমানকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে তারা। অতীত নিয়ে খুব বেশি অনুতপ্ত হয় না আবার ভবিষ্যৎ নিয়েও দুঃচিন্তা করে না তারা। প্রতিটা দিনকেই তারা স্মরণ করে রাখার মতো উপভোগ্য করে তুলে।

ভালো লাগার কাজ করা:

যে কাজগুলো করতে ভালো লাগে বা যার সাথে থাকতে ভালো লাগে তারা তাই করে। এতে জীবন সুন্দর ও সুস্থ থাকে বলে মনে করে জাপানিরা। যখন যা মনে চায় তাই করে তারা।

এ নিয়মগুলো মেনে চলার জন্যই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষদের তুলনায় জাপানিরা বেশি দিন বেঁচে থাকে বলে মনে করে গবেষকরা।

Leave a Reply

আরও পড়ুন