আবিষ্কার

ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ বছর পুরনো মসজিদের সন্ধান

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মরুভূমিতে ১২০০ বছর পুরনো একটি প্রাচীন মসজিদের খোঁজ পাওয়া গেছে। দেশটির প্রত্নতাত্ত্বিকরা মসজিদ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ব্রিটেনের লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান হাজার বছর আগের মসজিদ পাওয়ার খবর প্রকাশ করেছে।

এ অঞ্চলের মানুষদের খ্রীষ্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে মনে  করছেন পুরাকীর্তিতিদরা।

ইসরায়েলের পুরাকীর্তি কর্তৃপক্ষ জানায়, বেদুঈন শহরের রাহাতে একটি নতুন আবাসিক অঞ্চল তৈরির কাজ করার সময় হাজার বছরের আগের এই মসজিদটির সন্ধান পাওয়া যায়।

ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষ জানায়, মসজিদটি প্রায় ১২০০ বছরের পুরনো। এটির অবস্থান নেগেভ মরুভূমিতে। একটি রুম ও মক্কার দিকে মুখ করা একটি মিনার পাওয়া গেছে মসজিদটিতে।

মিনারটি দেখেই এটি একটি মসজিদ বলে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এ মসজিদটিতে এক সাথে কয়েক ডজন মানুষ নামাজ আদায় করতে পারতেন বলেও জানায় তারা।

ইসরায়েলের পুরাকীর্তি কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, মসজিদটির পাশেই বিলাসবহুল এক বাড়িরও সন্ধান মিলেছে। বাড়িটিতে পাওয়া পুরনো জিনিসপত্র থেকে বোঝা গেছে পরিবারটি ধনী ছিল।

এদিকে তিন বছর আগে এই একই এলাকায় আরেকটি মসজিদের সন্ধান পেয়েছিলেন ইসরায়েলের পুরাতত্ত্ববিদগণ।

এখানে যে দুটি মসজিদের সন্ধান মিলেছে এগুলো ইসলাম ধর্ম প্রবর্তনের প্রথমদিককার নিদর্শন বলেও তারা জানিয়েছেন।

মসজিদটি এ অঞ্চলে নতুন একটি ধর্ম-ইসলাম, নতুন শাসক ও সংস্কৃতির বর্ণনা দেয় বলেও জানান পুরাকীর্তিবিদরা।

ইসরায়েলে সন্ধান পাওয়া ১২০০ বছরের আগের মসজিদ

এ অঞ্চলে ধীরে ধীরে ইসলাম প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বলা হয় ৭০০ শতকে প্রথম ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে স্থানীয় লোকেরা।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, তারা যেসব ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছেন সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে মসজিদটি সপ্তম অথবা অষ্টম শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়।

ইসরায়েলে প্রাচীন কাল নিয়ে গবেষণা করা ইসরায়েল অ্যান্টিকুইটিস অথোরিট (আইএএ) বলছে, বেদুইন শহরে ভবন নির্মাণের সময় এই মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়।

তারা বলছে, ইসরায়েলের ওই এলাকায় এই প্রথম এতো প্রাচীন একটি মসজিদের খোঁজ পাওয়া গেল। এর আগে জেরুসালেম ও মক্কাতেও এমন প্রাচীন মসজিদের সন্ধান মিলেছিল।

সারা বিশ্বে প্রাচীন যেসব মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে তার মধ্যে এটি খুব বিরল বলে মনে করছেন ইসরায়েলের খনন বিষয়ক পরিচালক জন সেলিগম্যান ও সাহার জুর।

নানান তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলছেন, স্থানীয় কৃষক শ্রেণীর মানুষজনই ওই মসজিদে নামাজ আদায় করতে যেতেন।

ইসলামি ইতিহাসবিদ গিডন অভনি বলছেন, ৬৩৬ খৃস্টাব্দে আরবরা বাইজানটাইন প্রদেশ দখল করে নেওয়ার পর এসব মসজিদ নির্মাণ করেছিল।

“এই গ্রাম ও মসজিদের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা সেসময়কার ইতিহাসের জন্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ,” বলে জানান ইসলামি গবেষক অভনি।

পুরনো মসজিদটি হয় তো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে নতুবা নামাজ আদায়ের জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পুরাকীর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও পড়ুন

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিন শেষ!

রাফি সরকার: মরণব্যাধি ক্যানসার নির্মূলে বহুদিন ধরে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রচেষ্টার […]

প্রতিবন্ধীদের হাটার চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার

সিরাজুম মারফি: প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়ছেন তাদের বাবা-মা […]

মাত্র দুই মাসেই খাওয়ার উপযোগী দেশি মুরগি’র উদ্ভাবন

  রুকাইয়া মীম: দেশীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে অধিক মাংস উৎপাদনকারী […]